বেপাত্তা লালা ও তার সহযোগীর বাড়িতে পোস্টার সাঁটালো সিবিআই

0

আসানসোল: শেষ পর্যন্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করল আসানসোল সিবিআই’য়ের বিশেষ আদালত। বারবার নোটিশ দিয়ে ডেকে পাঠানোর পরেও হাজিরা না দেওয়ায় কয়লা পাচারের মামলায় মুল চক্রী অনুপ মাঝি ওরফে লালাকে ‘এ্যাবসকন্ড’ বা ‘ফেরার’ ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে লালার অন্যতম সহযোগী রত্নেশ ভার্মাকেও ‘ফেরার’ ঘোষণা করা হয়। গত ১১ জানুয়ারি ৮২ ধারায় এই মর্মে একটি নোটিশ জারি করেছেন আসানসোল সিবিআই আদালতের বিচারক জয়শ্রী বন্দোপাধ্যায়। নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই দুজনকেই আসানসোল সিবিআই আদালতে হাজিরা দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে হাজিরা না দিলে, আইন মোতাবেক তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের নোটিশ নিয়ে প্রথমে সিবিআইয়ের ৯ সদস্যের একটি দল পুরুলিয়ার নিতুরিয়ার ভামুরিয়াতে লালার বাড়িতে যান। সেখানে কেউ না থাকায় সিবিআইয়ের এক অফিসার আদালতের জারি করা নোটিশ বাড়ির দেওয়ালে সাঁটিয়ে দেন। একইভাবে, সিবিআইয়ের ৪ সদস্যের অন্য একটি দল আসানসোলের কুলটির মিঠানির বড়তোড়িয়ায় রত্নেশ ভার্মার বাড়িতে যান। সেখানেও বাড়ির দেওয়ালে নোটিশ সাঁটিয়ে দেওয়া হয়।

- Advertisement -

প্রথমে আসানসোলের সিবিআই আদালত দুজনের নামে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তাদের নোটিশ দিয়ে সিবিআই নিজাম প্যালেসে ডেকে পাঠিয়েছিল। তাদের বাড়ি ও অফিসেও সিবিআইয়ের অফিসাররা হানা দেয়। কিন্তু তাদেরকে পায়নি সিবিআই। এতকিছুর পরেও তারা হাজিরা দেয়নি। সময়মতো হাজিরা না দেওয়ায় আসানসোল সিবিআই আদালত জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পরে এবার লালা ও তার সহযোগীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নোটিশ জারি করল।

উল্লেখ্য, বুধবারই এই মামলায় আসানসোল, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া ও দূর্গাপুরের একাধিক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সিবিআই হানা দিয়েছিল। তার আগে ইসিএলের আধিকারিকদের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। অন্যদিকে, দিনকয় আগে সিবিআই’য়ের তরফে কোল ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছ বলে জানা গিয়েছে। ওই চিঠির মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়েছে, বিগত ৫ বছরে আসানসোল রানিগঞ্জে ইসিএলের কয়লাখনি এলাকার কয়লাখনি থেকে কত কয়লা চুরি হয়েছে। প্রয়োজনে চুরির পরিমান বার করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি করা যেতে পারে বলেও কোল ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে চিঠির মাধ্যমে।