উত্তরবঙ্গে চিটফান্ড তদন্তে ফের সক্রিয় সিবিআই

321
ছবি: সংগৃহীত

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : উত্তরবঙ্গে চিটফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে জাল গোটাচ্ছে সিবিআই। এখনও পর্যন্ত যা খবর মিলেছে, তাতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অফিস বানিয়ে কোটি কোটি টাকা তুলে চম্পট দেওয়া আটটি চিটফান্ড সংস্থার ডিরেক্টর, এজেন্ট ও প্রতারিত বেশ কয়েকজন আমানতকারীকে নোটিশ পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ২০ সেপ্টেম্বর তাঁদের কলকাতায় সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, যেসব চিটফান্ড কোম্পানির কর্তাদের ডাকা হয়েছে তাঁদের অনেকেই খাতায়-কলমে পলাতক হলেও, বর্তমানে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রয়েছেন। ফলে উত্তরবঙ্গের চিটফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে সিবিআইয়ের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পাঁচেক আগে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন আদালতে আবেদন করে চিটফান্ড সংক্রান্ত মামলাগুলির তদন্তভার নিয়েছিল সিবিআই। রাজ্যের চিটফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে তারা যে তদন্ত শুরু করেছিল, সেই তদন্তের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে বলেই উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি চিটফান্ডের মামলা সিবিআই নিজেদের হাতে নেয়। সেই তদন্তেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি উত্তরের আরও কয়েকটি সংস্থার তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাটি। তবে দীর্ঘদিন বাদে হঠাৎ করে কেন সিবিআই সক্রিয়তা বাড়াল, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

সিবিআইয়ের নোটিশ পেয়েছেন অর্থলগ্নিকারী সংস্থা আপনা পরিবার অ্যাগ্রোফার্মিংয়ের এক আমানতকারী প্রশান্তকুমার রায়। দিনহাটার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি বলেন, ওই সংস্থায় টাকা রাখলেও ফেরত পাইনি। তবে কোথাও অভিযোগও জানাইনি, মামলাও করিনি। সিবিআই কেন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে জানি না। তথ্যপ্রমাণ নিয়ে হাজিরা দিতে যাব। প্রতারিত আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাক সেটাই চাই।

কোচবিহারকে ঘাঁটি করে একসময় উত্তরবঙ্গ ও নিম্ন অসমে চিটফান্ডের কারবার ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। শুধু কোচবিহার শহরেই ৪০টিরও বেশি চিটফান্ড সংস্থার হেড অফিস ছিল। ২০১৪-২০১৫ সাল থেকে টাকা ফেরতের দাবিতে উত্তরের জেলাগুলিতে টানা আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সেই সময় ভয়ে বিভিন্ন চিটফান্ডের এমডি, ডিরেক্টর বা বড় এজেন্টরা গা-ঢাকা দেন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক মদতেই তাঁরা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসেন। চিটফান্ড কর্তাদের অনেকের সঙ্গেই তৃণমূল নেতাদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ওঠে। একাধিক প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত চিটফান্ড ব্লু সাইনের এক এমডির মতো অনেকেই সরাসরি পতাকা হাতে রাজনীতির ময়দানেও নামেন। প্রথমে তৃণমূল করলেও গত লোকসভা ভোটের আগে অনেকেই বিজেপিতে যোগ দেন।

ইতিমধ্যেই নোটিশ পাঠিয়ে চিটফান্ড সংস্থা এমবাসি ইনফ্রাটেকের বিরুদ্ধে মামলাকারীদের কলকাতার সিবিআই অফিসে ডাকা হয়েছে। সংস্থার একাধিক ডিরেক্টরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে সিবিআই। কোচবিহার শহরে হেড অফিস করে উত্তরবঙ্গজুড়ে টাকা তোলায় অভিযুক্ত ওই সংস্থার কর্তা পূর্ণ প্রধান তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত। কোটি কোটি টাকা তুলে ঝাঁপ বন্ধ করে পালিয়ে যাওয়া আর এক সংস্থা রয়্যালের একাধিক ডিরেক্টর ও এজেন্টকে নোটিশ পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন সিবিআই গোয়েন্দারা। আপনা পরিবার অ্যাগ্রোফার্মিং-এর বেশ কয়েকজন আমানতকারী, এজেন্ট ও ডিরেক্টরকেও কলকাতায় ডাকা হয়েছে।

সিবিআইয়ের পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও তাদের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চিটফান্ড সাফারার্স অ্যান্ড এজেন্টস ইউনিটি ফোরামের আহ্বায়ক পার্থ মৈত্র। তাঁর বক্তব্য, সিবিআই দ্রুত তদন্ত শেষ করতে চাইছে না। থেকে থেকে জেগে উঠছে। তারা নিরপেক্ষভাবে সকলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করুক।