দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েনে ধূপগুড়ির নিরাপত্তা শিকেয়

423

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : টাকা কে দেবে, সেই টানাপোড়েনে ধূপগুড়ি শহরে বিকল হয়ে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা সারাই করা হচ্ছে না। পুরসভা ওই ক্যামেরা বসিয়ে তার দায়িত্ব পুলিশের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু বাৎসরিক রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কে দেবে তা এখনও ঠিক হয়নি। অন্যদিকে, পুরোনো ৫৬টি ক্যামেরার ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকায় শহরে আরও ক্যামেরা লাগানো নিয়ে উদ্যোগী হয়ে পিছিয়ে এসেছে পুরসভা কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে শহরের ক্যামেরাগুলির যে পরিস্থিতি তাতে সেগুলি মেরামত করে সক্রিয় করে তুলতে এককালীন প্রায় ছয় লক্ষ টাকা প্রয়োজন। এরপর সেগুলির নিয়মিত দেখভালে নতুন করে বার্ষিক দেড় লক্ষ টাকার মতো খরচ হবে। সেই টাকা কে দেবে তার অপেক্ষাতেই রয়েছে ক্যামেরাগুলোর ভবিষ্যৎ। এ বিষয়ে পুলিশের কী ভাবনা সে বিষয়ে জানতে চাইলেও গোটাটাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিচারাধীন বলে জানিয়েছে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ কোনও মন্তব্য করেনি।

২০১৭ সালে শহরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে শহরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর পরিকল্পনা নেয় ধূপগুড়ি পুরসভা। প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা খরচ করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও মোড়ে ৫৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়। এরপর সিসিটিভি ক্যামেরার দায়িত্ব ধূপগুড়ি থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়। সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির সার্ভারটিও থানাতেই বসানো হয়। এই কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার তরফে ওয়ারেন্টি পিরিয়ডে ক্যামেরার রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি অনুসারে প্রথম দুই বছর ক্যামেরা নিয়মিত মেরামত করা হয়। সেসময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বাৎসরিক এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে ক্যামেরাগুলোর দেখভাল এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে। কিন্তু দুই বছর পরেই ক্যামেরা রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সমস্যা শুরু হয়। পুলিশ না পুরসভা কে এগুলির দেখভাল করবে তা নিশ্চিত না হওয়ায় ২০১৯ সালের মার্চ মাস থেকে প্রায় দেখভাল ছাড়াই ক্যামেরাগুলো চলছে। ফলে অনেকগুলি ক্যামেরাই বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে।

- Advertisement -

হাই ডেফিনেশন এই ক্যামেরাগুলি ঝড়-বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের ফলে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া খোলা আকাশের নীচে থাকায় ক্যামেরাগুলোয় আরও কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যাও নিয়মিত দেখা দেয়। ফলে প্রায় নিয়মিত এর দেখভাল প্রযোজন হয়। তবে দেখভালের খরচ নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে ৫৬টির মধ্যে অধিকাংশ ক্যামেরাই বর্তমানে সক্রিয় নেই। পুরসভা থেকে পুলিশ আধিকারিক সকলেই মনে করেন, শহরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই অকেজো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক মাসে শহরের বুক থেকে একাধিক বাইক ও টোটো চুরি হয়েছে। তাছাড়া আলুবীজ কেনাবেচার মরশুম শুরু হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শহরে আসতে শুরু করেছেন। সেক্ষেত্রে কোনও বড় অপরাধ হলে সেসময় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যাবে না। ফলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রায় কুড়ি লাখ টাকা খরচ করে ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল, তা সফল হবে না।

ওয়ারেন্টি পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ার দেড় বছর পরও কেন সিসিটিভি ক্যামেরার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি, তা বিস্তারিত বলতে চাননি পুলিশ ও পুরকর্তারা। তবে সূত্রের খবর, পুরসভা ক্যামেরা লাগিয়ে তা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরও তার দেখভালের খরচ দিয়েছে। এরপর জেলা পুলিশ সেগুলির দেখভাল করুক, এই আবেদন ছিল পুরসভার। এনিয়ে জেলা পুলিশ এবং পুরসভার মধ্যে চিঠি চালাচালি হলেও শেষ পর্যন্ত কোনও পক্ষই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। এরমাঝে একাধিক পুলিশ সুপার বদলে যাওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে ধূপগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশকুমার সিং বলেন, লকডাউন না হলে এতদিনে কাজটি হয়ে যেত। কিছু সমস্যা ছিল। তবে জেলা পুলিশের তরফে খুব সদর্থক সাড়া আমরা পেয়েছি। আশা করব শীঘ্রই সব ক্যামেরা সক্রিয় হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে শহরের আরও ক্যামেরা লাগানোর বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি।