প্রতীকী ছবি

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : চুরি থেকে ডাকাতি, নানা অপরাধের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে চলে আসায় বিড়ম্বনায় পুলিশ। এই ঘটনায় তদন্তে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে ব্যবসাদারদের সতর্ক করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার ক্ষেত্রে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে পুলিশের অন্দরে। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (জোন-১) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, কিছুদিন ধরেই অপরাধের ফুটেজ প্রকাশ্যে নিয়ে আসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে অপরাধীরা সমস্ত কিছু জানতে পেরে গা-ঢাকা দিতে পারছে। তাই কেউ যাতে তদন্ত শেষ না হওযা পর‌্যন্ত ফুটেজ প্রকাশ্যে না আনেন, সেদিকটা দেখা হচ্ছে।

মোবাইলের দোকানে চুরির ঘটনা হোক অথবা ফিনান্স কোম্পানিতে ডাকাতি, নানা অপরাধের ঘটনার ছবি এখন শিলিগুড়িতে অনায়াসে দেখা যায় বিভিন্ন জনের মোবাইলে। কোথা দিয়ে কী করে অপরাধী ঢুকল এবং কেমন করে অপরাধ সংগঠিত করে চম্পট দিল, সমস্ত ছবি এখন শহরবাসীর হাতের নাগালের মধ্যে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পুলিশকে। ফুটেজ প্রকাশ্যে চলে আসায় এবং তা অনায়াসে দুষ্কৃতীদের হাতে চলে যাওযায় অপরাধীরা সহজে বারবার জায়গা বদল করতে সক্ষম হচ্ছে বলে পুলিশের বক্তব্য। পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, একটি ডাকাতির ঘটনায় সুনির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে হানা দিয়ে দুষ্কৃতীদের ধরতে পারা যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায, পুলিশের হাতে যে ফুটেজ রয়েছে এবং প্রত্যেকেই চিহ্নিত হয়ে গিয়েছে, তা তারা জানতে পেরে গিয়েছিল। এমন কয়েকটি ঘটনায় স্পষ্ট ফুটেজ প্রকাশ্যে চলে আসায় তদন্তের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। বর্ধমান রোডের ফিনান্স কোম্পানিতে ডাকাতির ঘটনার ফুটেজও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। প্রকাশ্যে যখন ঘুরছে অপরাধীদের ছবি, তখন কেন তাদের নাগাল পাচ্ছে না পুলিশ, প্রশ্ন অনেক সাধারণ মানুষেরই। যেমন ইদানীংকালে শহরের বুকে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিযে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। রাতে মোটরবাইক দৌরাত্ম্য নিযে সরব অনেকেই। নানা ঘটনায় অপরাধের কিনারা করা বা অপরাধীদের ধরতে না পারার জন্য যে তাঁদের সমালোচিত হতে হচ্ছে, তা স্বীকার করে নিয়েছে পুলিশের একটা অংশ।

তবে নানা সমস্যার পাশাপাশি তাঁরা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে চলে আসার ঘটনাটিকে তুলে ধরছেন। এই কারণে তদন্ত শেষ হওযার আগে যাতে কোনো ব্যবসায়ী সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্য না আনেন বা পুলিশের বাইরে কাউকে না দেন, তার জন্য ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনার চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন পুলিশকর্তারা। এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার প্রয়াসও নেওযা হচ্ছে। ডিসিপি (জোন-১) বলেন, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রযোজন।