শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে বালুরঘাট দিবস পালন

71

বালুরঘাট: ১৯৪৭ সালেরও বহু আগে বালুরঘাট স্বাধীন বলে ঘোষিত হয়েছিল। ১৯৪২ সালেই এই শহরে ইউনিয়ন জ্যাক নামিয়ে সেখানে পতাকা উত্তোলন করে বালুরঘাটকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করেছিলেন সংগ্রামীরা। সে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। ৪২-এর বালুরঘাটের সেই আন্দোলনে হার মানতে বাধ্য হয়েছিল ব্রিটিশ প্রশাসন। বালুরঘাট ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশকর্মীরা। সেদিনের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সেই আত্মত্যাগ ও দেশের প্রতি ভক্তিকে আজও নিষ্ঠার সঙ্গে স্মরণ করেন বালুরঘাটবাসী।

প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযথ সম্মানে বালুরঘাট দিবস পালন করা হল। ডাঙ্গি এলাকার শহিদ বেদিতে ও বালুরঘাটের ট্রেজারি বিল্ডিং চত্বরে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন সহ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ডাংগীতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন পুলিশ সুপার রাহুল দে, ট্রেজারি বিল্ডিং চত্বরে পতাকা উত্তোলন করেন জেলাশাসক আয়েশা রানি। মঙ্গলবার সকালে আত্রেয়ীর ডাঙি ঘাটে ৭৯ বছর আগের সেই দিনটির স্মরণে সূচনা হল বালুরঘাট দিবসের অনুষ্ঠানের। বীর শহিদদের স্মৃতিফলকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে সেদিনের দেশপ্রেমের আবেগকে তুলে ধরার চেষ্টা করলেন বিশিষ্টজনেরা।

- Advertisement -

ইংরেজ শাসন ভাঙতে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ১৩ সেপ্টেম্বর সারারাত খুব গোপনে ভরা আত্রেয়ীর পশ্চিমপাড় থেকে নৌকায় এপারে দক্ষিণ দিকের ডাঙিঘাটে সমবেত হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর সকালেই মিছিল করে বালুরঘাটে এসে শহর অবরুদ্ধ করে দেন সংগ্রামীরা। একের পর এক সরকারি অফিসের দখল নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় আদালত, পোস্ট অফিস, প্রশাসনিক ভবনে। তৎকালীন প্রশাসনিক ভবন বর্তমানে ট্রেজারি বিল্ডিং থেকে ইউনিয়ন জ্যাক নামিয়ে ভারতের পতাকা উত্তোলন করা হয়। আচমকা হাজার হাজার মানুষের এমন আক্রমণে পালিয়ে যান ব্রিটিশ কর্তারা।