কোচবিহারের রাজকন্যা গায়ত্রীদেবীর জন্মদিবস পালন

113

কোচবিহার: কোচবিহারের রাজকন্যা গায়ত্রীদেবীর জন্মদিবস পালিত হল। রবিবার রাজবাড়ির প্রবেশপথের সামনে আস্থা ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থা তাঁর জন্মদিন পালন করেন। লকডাউন থাকায় সেভাবে কোনও অনুষ্ঠান করা হয়নি। তবে রাজকন্যার প্রতিকৃতিতে ফুল-মালা দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ জানান সংস্থার সদস্যরা। ১৯১৯ সালের ২৩ মে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন গায়ত্রীদেবী। তাঁরা বাবা ছিলেন কোচবিহারের মহারাজা জিতেন্দ্রনারায়ণ ভূপবাহাদুর। মা বরোদার রাজকুমারী ইন্দিরাদেবী।

জানা গিয়েছে, গায়ত্রীদেবী ছোটবেলায় অনেকটা সময়ই কোচবিহারে কাটিয়েছেন। ডানপিটে স্বভাবের হওয়ায় খেলাধুলো, ঘোড়ায় চড়া ও শিকার করতে ভালোবাসতেন। ভাই-বোনদের নিয়ে কোচবিহারের রাস্তায় ঘোড়া নিয়ে ছুটে বেড়াতেন তিনি। বাংলা ভাষায় বিশেষ জ্ঞান অর্জন করতে শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করেন। আন্তর্জাতিক একটি ম্যাগাজিন গায়ত্রীদেবীকে বিশ্বের অন্যতম সুন্দরী বলে তকমা দিয়েছিল। একটি ইন্টারভিউয়ে গায়ত্রীদেবীকে অন্যতম সুন্দরী বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন চলচ্চিত্র তারকা শাহরুখ খান।

- Advertisement -

ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন, ঘোড়ায় চেপে কোচবিহারের রাজপথ দাপিয়ে বেড়াতেন রাজকন্যা গায়ত্রীদেবী। শিকার করা ছিল তাঁর পছন্দের তালিকায়। কোচবিহারের রাজকন্যা থেকে জয়পুরের মহারানী হওয়া গায়ত্রী দেবীর জীবন ছিল বৈচিত্রে ভরা। একবার কলকাতায় পোলোর একটি ম্যাচে জয়পুরের মহারাজা সয়াই মান সিংহ(দ্বিতীয়)র সঙ্গে পরিচয় হয় গায়ত্রীদেবী। সেই পরিচয় পরিণয়ে পরিণত হয়। পরবর্তীতে জয়পুরের মহারানী হন গায়ত্রী দেবী। সেসময় কোচবিহারের বহু শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ জয়পুরে কাজ করতে যেতেন। তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়াতেন তিনি।

দেশ স্বাধীনের পর স্বতন্ত্র পার্টির হয়ে লোকসভা ভোটে লড়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। দেশে যখন জরুরি অবস্থা চলছে সেসময়ে রাজন্য ভাতা বিলোপ করে দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন গায়ত্রীদেবী। সেজন্য বেশ কিছুদিন তাঁকে তিহার জেলেও কাটাতে হয়েছে। মহারানী হওয়ার পর গায়ত্রীদেবী অনেকবার কোচবিহারে এসেছেন। কোচবিহারের প্রতি তাঁর অনেক টান ছিল। তবে অনেকেই আক্ষেপ করে জানান কোচবিহারে তাঁর কোনও মূর্তি নেই। তাঁর একটি মূর্তি স্থাপনের দাবি উঠেছে দীর্ঘদিন থেকেই।