বাংলাকে ভারতের ‘হুয়ান’ বানাচ্ছে কেন্দ্র, দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের

551
ফাইল ছবি

প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি: বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কষছে কেন্দ্র সরকার। প্রমাণ, কেন্দ্রীয় দলের চিঠি। ইচ্ছাকৃতভাবে এই রাজ্য ও শহর কলকাতাকে চিনের হুয়ান প্রদেশ বানাতে চাইছে মোদি সরকার। সোমবার ভিডিও কনফারেন্সিংর মাধ্যমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই অভিযোগ তুলে ধরেন তিন তৃণমুলী সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দীনেশ ত্রিবেদী ও ডেরেক ও’ব্রায়েন।

চোদ্দদিন রাজ্য সফর শেষে দিল্লি ফিরেছে দুটি কেন্দ্রীয় দল। যাওয়ার আগে মুখ্য সচিবকে দেওয়া একটি চিঠিতে দলনেতা ও বিশেষ সচিব অপূর্ব চন্দ্র। সেই চিঠিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ ও অসহযোগিতার নিদর্শন তুলে ধরেছেন তিনি। তিনি বলেছেন, করোনা মৃত্যুতে গোটা দেশে পশ্চিমবঙ্গের হার সর্বাধিক, সেখানে যথাযথ নজরদারি নেই, নেই নমুনা পরীক্ষার আধিক্যও। যারা সংক্রমিত হয়েছেন তাদেরও যথাযত চিহ্নিত করা হয়নি। গোটা প্রক্রিয়া ঘিরে দেখা গিয়েছে অস্বচ্ছতা।

- Advertisement -

রাজ্য সরকারের তরফে উঠে এসেছে অভাবনীয় অসহযোগিতার নজির। বহুবার চিঠি পাঠিয়ে, আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বা দেখা করতে চেয়েও লাভ হয়নি। তবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রশংসাও করেছেন অপূর্ব চন্দ্র। তিনি বলেন, রাজ্যে দ্রুত নমুনা পরীক্ষার হার বেড়েছে, টেস্টিং সেন্টারগুলি ভালই কাজ করছে বা আইসিএমআর’র নির্দেশিকা মেনে ভাল কাজ করছে রাজ্য, এমন কথাও উল্লেখ করেছেন কেন্দ্রীয় দলনেতা।

তবে প্রশংসার দিক সরিয়ে রেখে মুলত কেন্দ্রীয় দলের অবস্থান ও অভিযোগের সূত্র নিয়ে এদিন তোপ দাগেন সুদীপ-দীনেশ-ডেরেক’রা। এ নিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘চোদ্দদিন কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছে এই দলটি। কিন্তু তারা এমন কিছুই খুঁজে পায়নি যাতে মনে হয় বাংলাই সারাদেশের কোভিড ১৯ ছড়ানোর ভরকেন্দ্র।’ সুদীপ বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রথম দিন থেকেই রাস্তায় নেমেছেন। নিয়েছেন এই করোনা রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ সব পদক্ষেপ। রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ নিয়েছে বিভিন্ন যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ ও তৎপরতা। এগিয়ে এসেছে রাজ্যের মানুষ, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা। অথচ কেন্দ্রীয় দলের মনে হচ্ছে রাজ্যে কিছু কাজ হয়নি। ইচ্ছা করেই ভুল বোঝাবুঝির বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে।’

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এটি একটি অভাবনীয় পরিস্থিতি। সেখানে প্রয়োজন অভাবনীয় কিছু পদক্ষেপের। মুখ্যমন্ত্রী ঠিক একই পদক্ষেপ-ই নিয়েছে। করোনার বিরুদ্ধে বাংলার সেই ‘শূণ্য সহনশীলতা’র নীতি দেখিয়েছেন মমতাই। এই নিয়ে নিম্নমানের রাজনীতি করা অনুচিত। দীনেশ এও বলেন, কেন্দ্র শুধু দিল্লিতে বসে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তাকে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলতে হয়। এই কাজে কেন্দ্র, রাজ্য ও সাধারণ মানুষের একত্রে কাজ করা প্রয়োজন। অহেতুক বিভ্রান্তি ছড়িয়ে, কদর্য রাজনীতি করে মানুষকে ভুল বোঝানো যাবে না।

কেন্দ্রীয় দল প্রসঙ্গে ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, কেন্দ্রীয় দল ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রাজ্যের বিষয়ে বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী। স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলেছে, লক ডাউনে সবচেয়ে ভাল কাজ হয়েছে এই বাংলাতেই। অথচ কেন্দ্রীয় দলের বক্তব্য এই রাজ্যই সারাদেশের ‘করোনা এপিসেন্টার’। আগে নিজেদের বক্তব্যে সমন্বয়সাধন করুক মন্ত্রক ও কেন্দ্রীয় দল, তারপর না হয় অভিযোগ শানানো যাবে।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলার আগে কেন্দ্র নিজের বিবেকের কাছে জবাবদিহি করুক। এই রোগের প্রতিরোধে রাজ্য ২৫০০০ কোটি টাকার প্যাকেজ চেয়েছিল। রাজ্যের পাওনা ৩৮০০০ কোটি টাকাও চাওয়া হয়। কোন টাকাই আজ পর্যন্ত পায়নি রাজ্য সরকার। এই নিয়ে বহুবার কেন্দ্রের কাছে দরবার করা হলেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রের নীরবতা অভাবনীয়, বলে কটাক্ষ করেন সুদীপ। তিনি এও বলেন, পার্লামেন্টে যখন এই আলোচনার দাবি করেছে বা সংসদ স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে কেন্দ্র তখন তা উপেক্ষা করেছে। রাজ্যকে বঞ্চিত করা হয়েছে তার প্রাপ্য থেকে। আগে এসবের জবাব দিক কেন্দ্র সরকার, তারপর না হয় কেন্দ্রীয় দল ও তাদের মনগড়া অভিযোগ নিয়ে কথা বলা যাবে। ডেরেক ও’ব্রায়েন এর সমর্থন করে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যতাড়িত হয়ে বাংলাকে সারা দেশের হুয়ান বানাতে দেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, উঠে আসে রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্যের শৈত্যতার কথাও। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যেভাবে রাজ্যপাল রাজ্যের প্রতিটি কাজে প্রশ্ন তুলছেন, লম্বা লম্বা চিঠি পাঠাচ্ছেন তাতে দেশের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। তিনি শাসকদলীয় প্রতিনিধি। রাজভবনের গড়িমা ও মর্যাদাকে ভুলুন্ঠিত করছেন। সুদীপের দাবি, রাজ্যপালের বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া দেওয়া মানে তাকে অযাচিত গুরুত্ব পাইয়ে দেওয়া। তাই এবার থেকে আর কোন চিঠির জবাব দেবে না রাজ্য সরকার। এখন করোনা নিয়ে লড়াইয়ের প্রয়োজন। প্রয়োজন করোনা মুক্ত দেশ ও বিশ্ব। এই লড়াইতে সবাইকে দরকার। রাজ্যপালের পিছনে সময় নষ্ট করার মতন সময় রাজ্যের নেই বলে জানান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।