এবার গ্রামেও নগরায়ণের কথা ভাবছে কেন্দ্র

238

সানি সরকার  শিলিগুড়ি : গ্রামীণ এলাকার পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা বরাদ্দের ক্ষেত্রে শর্ত বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। বরাদ্দের পঞ্চাশ শতাংশ টাকা স্যানিটেশন, রেইন ওয়াটার হারভেসটিং এবং পরিস্রুত পানীয় জলের ক্ষেত্রে ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছে গ্রাম উন্নয়নমন্ত্রক। রাজ্য সরকারও কেন্দ্রের ভাবনাচিন্তার সুফল ঘটাতে তত্পর হয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রূপায়ণে কী কী করতে হবে, তা বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা পরিষদ এবং শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদকে স্পষ্ট করে দিয়েছে রাজ্য। পঞ্চায়েমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, গ্রামের হাল পরিবর্তনের লক্ষ্যেই নির্মল বাংলা মিশন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। গ্রামীণ এলাকা এবং সেখানকার মানুষদের সুস্থ রাখার লক্ষ্যেই নতুন আর্থিক বছরে পরিস্রুত পানীয় জলপ্রকল্পে জোর দেওয়া হচ্ছে। এব্যাপারে আমরা বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছি। রাজ্যে ৩,৩৪০টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এরমধ্যে পাহাড়ে রয়েছে ১১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত। পাহাড়ে প্রায় দেড় দশক ধরে পঞ্চায়েত নির্বাচন না হওয়ায় বা কোনও পঞ্চায়েত না থাকায় সেখানে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রূপায়ণ হবে না।

ভবিষ্যতের রক্ষাকবচের লক্ষ্যে পরিচ্ছনতা, পরিস্রুত পানীয় জল এবং বৃষ্টির জল সংরক্ষণে জোর দিয়েছে গ্রাম উন্নয়নমন্ত্রক। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দ টাকার পঞ্চাশ শতাংশ এই সংক্রান্ত প্রকল্পে ব্যয় করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা, কাজ এবং কাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট প্ল্যান প্লাস পোর্টালে আপলোড করার কথাও বলা হয়েছে। অর্থাত্ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা, তার ওপর নজর রাখা হবে। রাজ্যের অধিকাংশ গ্রামেই পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। বরং আর্সেনিক যুক্ত জল পান করার নজির রয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে যেমন তেমন টিউবওয়েল বসানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মার্ক-টু টিউবওয়েল বসানোর অনুমতি দেওয়া হলেও তার নীচে চাতাল তৈরি করা এবং জল যাতে নর্দমায় যায়, সেই ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহের ক্ষেত্রে বেশি করে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সাহায্য নিতে পারবে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি। পরিবেশ দূষণরোধে কেন্দ্র জোর দিয়েছিল স্বচ্ছ ভারত অভিযানে। রাজ্যের রয়েছে নির্মল বাংলা মিশন। এই প্রকল্পে বাড়ি বাড়ি শৌচালয় তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় প্রাতিষ্ঠানিক শৌচালয় তৈরি করতে বলা হয়েছে। এখন থেকে খোলা ড্রেন তৈরি করা যাবে না, পরিবর্তে ঢাকা ড্রেন করার কথা বলা হয়েছে। বৃষ্টির জল সংরক্ষণে জোর দিতে রাজ্যের তরফে জল ধরো জল ভরো প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। বৃষ্টির জলকে ভবিষ্যতের কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে জোর দিচ্ছে কেন্দ্রও। প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েত যাতে এই ক্ষেত্রে উদ্যোগী হয়, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ এলাকার ২২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কোথাও এই ধরনের প্রকল্প নেই। এরফলে বৃষ্টির জল ভবিষ্যতে যেমন সেচের কাজে ব্যবহার করা যাবে, তেমনই গৃহস্থালির কাজেও লাগানো যাবে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের তরফে বুধবারের ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়েছিলেন আইএসজিপিপি-র সঞ্চালক সুহাস ঘোষ। তিনি বলেন, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ৫০ শতাংশ টাকা স্যানিটেশন, রেইন ওয়াটার হারভেসটিং এবং পরিস্রুত পানীয় জলের ক্ষেত্রে ব্যয় করতে হবে। এব্যাপারে প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েকে অবহিত করা হচ্ছে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকারের বক্তব্য, নগরায়ণের পথে গ্রামগুলিও এগিয়ে চলেছে। ফলে সময়ে দাবি মেনেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -