গ্রামীণ এলাকায় নজর সরকারের, বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছোতে প্রকল্প

425

শুভাশিস বসাক,  ধূপগুড়ি : এবার গ্রামীণ এলাকাতেও বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হল। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ বরাদ্দে রাজ্যজুড়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের প্রথম ধাপ হিসেবে বিভিন্ন জেলা থেকে রাজ্যস্তরে ডিটেইলড প্রোজেক্ট রিপোর্টও (ডিপিআর) পাঠানো হয়েছে। মোট চারটি ধাপে প্রকল্পের নামকরণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে অর্থাত্ জাতীয়স্তরে এর নাম জাতীয় জল জীবন মিশন। এছাড়া রাজ্যস্তরে স্টেট ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন মিশন, জেলাস্তরে ডিস্ট্রিক্ট ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন মিশন এবং গ্রামীণস্তরে পানি সমিতি বা ভিলেজ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন কমিটি নাম দেওয়া হয়েছে। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী গ্রামীণ এলাকার প্রকল্পটির নাম দিয়েছেন জলধারা প্রকল্প।

জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে জল জীবন মিশনের আওতায় নতুন করে পরিকল্পনা করে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রকল্প রূপায়ণের সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, গোটা দেশের গ্রামীণ এলাকা মিলিয়ে ১৭ কোটি ৮৭ লক্ষ পরিবারের মধ্যে ৩ কোটি ২৭ লক্ষ পরিবারে পাইপলাইন দ্বারা পানীয় জলের সংযোগ রয়েছে। জল জীবন মিশন প্রকল্পে মোট ৩.৬০ লক্ষ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে। হিমালয়ান ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্য ৯০ : ১০ হারে, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং) রাজ্যগুলিতে পুরোটাই কেন্দ্র সরকার এবং বাকি রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্য ৫০ : ৫০ হারের বরাদ্দে কাজ করবে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রর দাবি, এই রাজ্যেও যথেষ্ট সংখ্যায় জলপ্রকল্পের কাজ হয়েছে। পাশাপাশি, চলতি বছর ডিসেম্বর মাসেও দপ্তরের কর্মীরা কাজে অনেকটাই এগিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন। একইভাবে রাজ্য সরকার গ্রামীণ এলাকাতে পানীয় জলপ্রকল্পের ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন।

- Advertisement -

এদিকে, প্রকল্পের কাজ করা ছাড়াও পানীয় জল তোলার উৎস বৃদ্ধির কাজেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জল জীবন মিশন প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পরিবারে মাথাপিছু নিয়মিত ৫৫ লিটার করে জল সরবরাহ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র বলেন, ২০২৪ সালের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ২০২২ সালের মধ্যেই গ্রামীণ এলাকার প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে।