গান্ধি পরিবারের তিন ট্রাস্টের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ কেন্দ্রের

437
ফাইল ছবি।

নয়াদিল্লি: কংগ্রেসের সঙ্গে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির গোপন আঁতাত নিয়ে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকার সরব হয়েছিল আগেই। এবার আরও একধাপ এগিয়ে নেহেরু-গান্ধি পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন রাজীব গান্ধি ফাউন্ডেশন সহ তিনটি ট্রাস্ট্রের বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকি, আর্থিক তছরুপ এবং বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত নিয়মবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ দিল মোদি সরকার। ইডির স্পেশাল ডিরেক্টরের নেতৃত্বে একাধিক মন্ত্রকের আধিকারিকদের নিযে গঠিত একটি কেন্দ্রীয় দল ওই তিনটি ট্রাস্টের কাজকর্মে কোনও আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখবে।

রাজীব গান্ধি ফাউন্ডেশন ছাড়া বাকি দুটি ট্রাস্টের নাম রাজীব গান্ধি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এবং ইন্দিরা গান্ধি মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। রাজীব গান্ধি ফাউন্ডেশন এবং রাজীব গান্ধি মেমোরিয়াল ট্রাস্টের চেয়ারপার্সন হলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি। ইন্দিরা গান্ধি মেমোরিয়াল ট্রাস্টের চেয়ারপার্সন হলেন কেরলের ব্যবসায়ী তথা রাজনীতিবিদ কেএম পারিথ। এই ট্রাস্ট কেরলে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালায়। ইন্দিরা গান্ধি মেমোরিয়াল এই ট্রাস্টের অধীন। সোনিয়া গান্ধির তত্ত্বাবধানে ওই ইন্দিরা গান্ধি মেমোরিয়ালের কাজ পরিচালনা হয়। ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধি ফাউন্ডেশন গড়ে তোলা হয়।

- Advertisement -

রাজীব গান্ধি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট তৈরি হয় ২০০২ সালে। এই দুটি ট্রাস্টের সঙ্গে রাহুল গান্ধি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধি ভদরা জড়িত। ২০০১ সালে তৈরি হয় ইন্দিরা গান্ধি মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। সম্প্রতি চিন ইশ্যুতে রাহুলের অভিযোগের জবাবে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ কংগ্রেসের পাশাপাশি রাজীব গান্ধি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে চিনা সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে রাজীব গান্ধি ফাউন্ডেশন ১০০ কোটি পাওয়ায় কৈফিয়ত চেয়েছিল গেরুয়া শিবির।

কেন্দ্রীয় সরকার একসঙ্গে এই তিনটি ট্রাস্টকে নিশানা করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধি সহ কংগ্রেস নেতৃত্ব। দেশের প্রধান বিরোধী দলের প্রশ্ন, লাদাখ ইশ্যু সহ একাধিক বিষয় নিয়ে বারবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্যই কি এই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? রাহুল টুইটারে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মনে করেন, গোটা দুনিয়াটা তাঁর মতো। ওঁর হয়তো ধারণা, সবাইকে কেনা যায় অথবা ভয় দেখানো যায়। কিন্ত যাঁরা সত্যের জন্য লড়াই করেন, তাঁদের যে কেনা যায় না বা ভয় দেখানো যায় না, সেটা উনি কখনও বুঝবেন না।

কংগ্রেস এক বিবৃতিতে বলেছে, আতঙ্কে ভুগতে থাকা সরকারের কাপুরুষোচিত কাজকর্মকে দলীয় নেতৃত্ব ভয় পায় না। কংগ্রেসের অভিযোগ, ভারতের সুরক্ষা এবং অখণ্ডতার সঙ্গে লাগাতার সমঝোতা, করোনা পরিস্থিতি সামলানোয় ব্যর্থতা এবং দেশের অর্থনীতির শোচনীয় দশা নিয়ে লাগাতার প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলেই কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিজেপি এতটা বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে পড়েছে।

কংগ্রেসের দাবি, রাজীব গান্ধি ফাউন্ডেশন সহ তিনটি ট্রাস্ট সেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের আয়ব্যয়ের নিয়মিত অডিট হয়। তারা যে কোনও প্রতিহিংসাপরায়ণ তদন্তপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। কারণ, প্রতিদিন বিজেপি নেতৃত্ব একের পর এক নতুন ষড়যন্ত্র করছে। মোদি সরকারের ব্যর্থতাগুলি ঢাকার জন্য তারা মানুষের নজর ঘোরাতে চাইছে, বিভ্রান্ত করতে চাইছে।

নেহেরু-গান্ধি পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন ট্রাস্টগুলির কাজের তদন্তের জবাবে বিজেপি ও আরএসএসের অনুদান নিয়ে কেন তদন্ত করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছে কংগ্রেস। দলের প্রশ্ন, ২০১৫-১৬ সালে বিজেপি ৫৭০.৮৬ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছিল। ওই অনুদানের পরিমাণ ২০১৮-১৯ সালে বেড়ে ২৪১০ কোটি টাকা হল কীভাবে তার তদন্ত করা হোক। আরএসএস কত টাকা অনুদান পায়, তারও তদন্ত করা প্রয়োজন। বিজেপি অবশ্য কংগ্রেসের তোলা অভিযোগের জবাবে বলেছে, ‘আমাদের সরকার স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী।‘