এলআইসির ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে পারে কেন্দ্র

721

নয়াদিল্লি : কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট ভাষণে প্রথম রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা ভারতীয় জীবনবিমা নিগমের (এলআইসি) শেয়ার বিক্রির কথা বলেছিলেন। নির্মলা সীতারামনের সেই বক্তব্যে সেসময় বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। কেন্দ্রের অবস্থানের বিরোধিতা করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি টুইট করেছিলেন, কোটি কোটি মানুষ বিশ্বাস করে এলআইসিতে টাকা রেখেছেন। মোদি সরকার এলআইসির ক্ষতি করে সংস্থাটির ওপর মানুষের আস্থায় আঘাত করতে চাইছে। এ ধরনের পদক্ষেপে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়বে, যার পরিণাম হবে ভয়াবহ। গত কয়েকমাসে অবশ্য এলআইসির শেয়ার বিক্রি নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মন্তব্য করতে শোনা যায়নি। সম্প্রতি একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়, করোনা সংকটে বাজেট ঘাটতি কমাতে এলআইসিতে সরকারি অংশীদারিত্বের একাংশ বিক্রি করে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ব্লুমবার্গের ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, এলআইসির ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে পারে কেন্দ্র। এজন্য সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে বিল আনা হতে পারে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের তরফে অবশ্য মঙ্গলবার পর্যন্ত এব্যাপারে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।

দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে মোদি সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণের পথে হাঁটছে। খনি শিল্পে বেসরকারিকরণের পথ প্রশস্ত করার পর সদ্য শেষ হওয়া বাদল অধিবেশনে কৃষি সংক্রান্ত ২টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করিয়ে নিয়েছে সরকার। আলু, ডাল, পিঁয়াজের মতো ফসলকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য তালিকার বাইরে আনা হয়েছে। এর ফলে ওইসব ফসলের মজুতদারি ও বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ উঠে গিয়েছে। নতুন কৃষি আইন নিয়ে রাজ্যে রাজ্যে আন্দোলন চললেও সরকার নিজেদের অবস্থানে অনড়। এখন আবার এলআইসির শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেল। ১৯৫৬-র এলআইসি আইনে সরকারের অংশ বিক্রির কোনও উল্লেখ নেই। সেটা করতে হলে আগে আইন বদলাতে হবে। সূত্রের খবর, ডিপার্টমেন্ট অফ ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস ইতিমধ্যে এসংক্রান্ত বিলের খসড়া তৈরি করে ফেলেছে। খসড়া সংশোধনীর ব্যাপারে নীতি আয়োগ, সেবি ও আইআরডিএ-র মতামত চাওয়া হয়েছে। খসড়াটি চূড়ান্ত হলে তা মন্ত্রীসভার অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। তার পর বিলের আকারে সংসদে আনা হবে।

- Advertisement -

প্রাথমিকভাবে এলআইসির ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর রাজস্ব আদায় বিরাট ধাক্কা খেয়েছে। বাজেট ঘাটতি ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পরিকাঠামো সহ বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। রাজস্ব ঘাটতি কমাতে তাই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নিকরণের দিকে নজর দিয়েছে কেন্দ্র। সেই সূত্রেই এলআইসিতে সরকারের এক-চতুর্থাংশ শেয়ার বিক্রি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, এলআইসির শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে রিটেল ইনভেস্টরদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। সংস্থার কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ার সংরক্ষিত রাখা হবে। শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এলআইসি হবে দেশের বৃহত্তম ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও)। এর ফলে সংস্থায় সরকারের মালিকানা কমে হবে ৭৫ শতাংশ।