ভোটের আগে বাংলায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বরাদ্দ ঘোষণার সম্ভাবনা

197

নয়াদিল্লি ও কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মোদি সরকারের প্রকল্পগুলিকে সামনে রেখে প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, এব্যাপারে দলের সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রদেশ নেতৃত্বকে প্রচারের রূপরেখা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি থেকে প্রকল্পগুলি নিয়ে প্রচারে নামতে চলেছে রাজ্য বিজেপি। জনসভা, লিফলেট বিলি ছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন্দ্রের জনমুখী প্রকল্পগুলি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রচার চালানো হবে। পাশাপাশি ভোটের আগে রাজ্যে চালু কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ করা হতে পারে। এই তালিকায় রয়েছে স্মার্ট সিটি, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের মতো প্রকল্প। বিধানসভা নির্বাচনে এবার তৃণমূলের প্রচারে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ইস্যুটি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। আমপান সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সাহায্য যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ করে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম আমলে নেওয়া ঋণের সুদ-আসল বাবদ প্রতি বছর কেন্দ্রকে বিপুল অর্থ দিতে হচ্ছে বলে  তিনি প্রায়ই বলে থাকেন। এই টাকা রাজ্যের হাতে থাকলে সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা থেকে শুরু করে পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি বরাদ্দ করা সম্ভব হত বলে দাবি করে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। এমন সময় জনমুখী প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের উদ্যোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

জানা গিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় বরাদ্দ ঘোষণা হতে পারে। এছাড়া কলকাতার নিউ টাউনে স্মার্ট সিটি প্রকল্পে অর্থ মঞ্জুর করতে চলেছে কেন্দ্র। স্মার্ট সিটি প্রকল্পের টাকায় রাস্তায় সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে আলো জ্বালানো, জল সংরক্ষণ, ইকো পার্ক তৈরি, সিসিটিভি বসানোর কাজ হবে। বিধানসভা ভোটের আগে ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হতে পারে। রাজ্যের শাসকদলের বঞ্চনা-অস্ত্র ভোঁতা করতে গত ৫ বছরে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বরাদ্দের হিসাবও প্রকাশ করা হবে। আয়ুষ্মান ভারত, পিএম কিষানের মতো প্রকল্পগুলি রাজ্যে চালু না হওয়ার বিষয়টিও তুলে প্রচার করা হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে চালু থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির অন্যতম হল প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (নগর)। প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ৪ লক্ষ ৭১ হাজার বাড়ি তৈরির জন্য ৭ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে এই প্রকল্পে আরও বাড়ি তৈরির অর্থ মঞ্জুর করা হবে। আগামী ২৭ ডিসেম্বর সেন্ট্রাল স্যাংশনিং কাম মনিটারিং কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে বরাদ্দের ব্যাপারে প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার কথা। কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বরাদ্দের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গকে নজরে রেখে বেশ কিছু প্রকল্পের সূচনা করতে পারে কেন্দ্র। গত সপ্তাহে কলকাতায় ট্রাইবাল কোঅপারেটিভ মার্কেটিং ডেভেলপমেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (ট্রিফেড) প্রকল্পের সূচনা করেন কেন্দ্রীয় আদিবাসী উন্নয়নমন্ত্রী অর্জুন মুন্ডা। এই প্রকল্পে প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী আদিবাসীদের তৈরি পণ্য সংগ্রহ করে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। চলতি বছরে আদিবাসীদের সংগৃহীত বনজ পণ্যের ন্যূনতম সহায়কমূল্য চালু করেছে কেন্দ্র। এর ফলে জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গে বসবাসকারী আদিবাসীদের বড় অংশ উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

- Advertisement -