রাজ্যসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হল কৃষি বিল

594

নয়াদিল্লি: লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও পাশ কৃষি বিল। রবিবার, রাজ্যসভায় পেশ করা হয় কৃষি বিল। প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও দুপুরে অধিবেশন শেষের আগে রাজ্যসভায় ধ্বনিভোটে পাস হয়ে যায় কৃষি বিল। যদিও বিলের বিরোধিতায় সকাল থেকে প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়ে মোদি সরকার। ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখায় বিরোধীরা। দেওয়া হয় স্লোগান। উপরাষ্ট্রপতির সামনে কৃষি বিলের কপি ছেঁড়েন বিরোধীরা।

এদিন কেন্দ্রীয় কৃষি উন্নয়ন, কৃষক কল্যাণ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী নরেন্দ্র সিংহ তোমর বিল পেশ করে বলেন, ‘‘কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়ার পথে এই বিল কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না।’’ যদিও কংগ্রেস বলেছে, এই বিল আসলে ‘কৃষকদের মৃত্যু পরোয়ানা’।

- Advertisement -

রবিবার সকাল থেকেই কৃষি বিলের বিরুদ্ধে পঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান-সহ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ দেখাতে পথে নেমেছেন চাষিরা। উত্তর ভারতের প্রভাবশালী কৃষক সংগঠন ‘ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন’ পথ অবরোধ আন্দোলন ঘোষণা করেছে। আন্দোলনকারী চাষি এবং বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই বিলগুলিতে কৃষকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে বড় ব্যবসায়ী এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে একতরফা ভাবে ফসলের দাম নির্ধারণ এবং মজুতদারির অধিকার দেওয়া হয়েছে। যদিও এ সবের মধ্যেই ধ্বনিভোটে পাশ হয়ে গেল কৃষি বিল। কারণ, রাজ্যসভায় মোট ২৪৩টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে লাগত ১২২টি ভোট। তার মধ্যে এনডিএ-র হাতে রয়েছে ১১১টি ভোট। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় এনডিএ-র হাতে ১১টি ভোট কম। এদিকে কেন্দ্র সরকারের সমর্থনে রয়েছে শিবসেনা, এআইএডিএমকে, জেডিইউ, অসম গণপরিষদ সহ বেশ কয়েকটি দল।

অন্যদিকে, কৃষি বিলের প্রতিবাদে সরব হয়েছে এনএডিএ-র সহযোগী শিরোমণি অকালি দল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফাও দিয়েছেন অকালি দলনেত্রী হরসিমরত কৌর। বিলের বিরোধিতায় সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল, আপ, ডিএমকে, বিএসপি, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি ছাড়াও বাম দলগুলি। কৃষি বিল পেশের বিরোধিতায় আরএসএসের কৃষক সংগঠনও। বিলে খামতি রয়েছে, জানাল ভারতীয় কিষাণ সংঘ। বিলটি ফের সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানোর দাবি সংঘের। এই কৃষি বিল নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল হরিয়ানা-পঞ্জাব। দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা কংগ্রেসের। কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে আগামীকাল কংগ্রেস নেতাদের বৈঠক।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কৃষি বিল প্রসঙ্গে বিরোধীদের নিশানা করে বলেন, “মিথ্যে প্রচার চালানো হচ্ছে যে, সরকারি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) মিলবে না।’’ এর পরে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম শনিবার প্রশ্ন তোলেন— চাষিরা সরকারি মন্ডির বাইরে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে ফসল বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা তার চেয়ে বেশি দরে ফসল কিনতে বাধ্য থাকবেন, এমন কোনও শর্তের কথা বিলে নেই কেন? সেই প্রশ্নের সদুত্তর না দিয়েই আজ রাজ্যসভায় শক্তিপরীক্ষায় নেমে ধ্বনিভোটে জয়ী হয় সরকার পক্ষ।