শতাব্দী প্রাচীন হাসপাতালে চিকিৎসক নেই, প্রতিবাদে অবরোধ

209

বর্ধমান: শতাব্দী প্রাচীন হৈমবতী দাতব্য চিকিৎসালয়টি এতদিন চালিয়ে আসছিলেন একজন মাত্র চিকিৎসক। ২০২০ সালের শেষদিনে অবসর নিয়েছেন ওই চিকিৎসক। তারপর থেকেই তালা পড়ে গিয়েছে হৈমবতী দাতব্য চিকিৎসালয়ে। সে কারণে চিকিৎসা পরিষেবা আর না মেলায় ক্ষোভে ফুঁষছিলেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের পাঁচড়া অঞ্চলের বাসিন্দারা। অবিলম্বে চিকিৎসক নিয়োগ করে চিকিৎসালয়টি চালুর দাবিতে বুধবার মেমারি তারকেশ্বর রাজ্য সড়কে চৌবেড়িয়ায় পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন পাঁচড়া গ্রামের বাসিন্দারা। ঘণ্টা খানেক অবরোধ বিক্ষোভ চলার পর গ্রামবাসীরা পুলিশি প্রশাসনের কর্তাদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন। পাঁচড়া গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় রয়েছে দাতব্য চিৎসালয়টি। যেটি আজ থেকে ১০৩ বছর আগে ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। গ্রামের মানুষজনের চিকিৎসার স্বার্থে এলাকার বধূ হৈমবতী মুখোপাধ্যায় এই চিকিৎসালয়টি তৈরির ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা নিয়ে ছিলেন। তাই তাঁর নামেই চিকিৎসালয়টির নামকরণ হয়। ব্রিটিশ রাজত্বে তৎকালীন বর্ধমানের ডিভিশনাল কমিশনার ডিএইচলিস হৈমবতী দাতব্য চিকিৎসালয়টির উদ্বোধন করেছিলেন।

প্রথমে একাধিক ডাক্তার ও কমপাউন্ডার এই চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা পরিষেবা দেবার কাজে নিযুক্ত ছিলেন। চিকিৎসালয়ে রেখে রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সময় যত গড়িয়েছে ততই চিকিৎসালয়ে পরিষেবা দুর্বল হতে শুরু করে। পরে জেলা পরিষদ চিকিৎসালয়টি পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর একজন মাত্র চিকিৎসকের উপর নির্ভর করেই চলছিল হৈমবতী দাতব্য চিকিৎসালয়টি। পাঁচড়া ছাড়াও আশপাশের গ্রামের মানুষজনও চিকিৎসার জন্য এই চিকিৎসালয়ে যেতেন। গত ৩১ ডিসেম্বর এখানকার চিকিৎসক অবসর নেওয়ার পর থেকে চিকিৎসালয়টি তালা বন্ধ হয়েই পড়ে রয়েছে। পরিষেবা না মেলায় ক্ষুব্ধ পাঁচড়ার বাসিন্দারা এদিন একজোট হয়ে মেমারি তারকেশ্বর রোডের চৌবেড়িয়ার হাটতলায় পথ অবরোধ করে।

- Advertisement -

পথ অবরোধে সামিল থাকা পাঁচড়ার বাসিন্দা রাজু ঘোষ বলেন, যে একজন চিকিৎসক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেটি চালাচ্ছিলেন তিনি অবসর নেওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তালা বন্ধ হয়ে রয়েছে। অপর বাসিন্দা শ্রীকান্ত নন্দী বলেন, ২০ থেকে ২২টি গ্রামের মানুষজন এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপরই নির্ভরশীল। প্রতিদিন গড়ে আড়াইশো থেকে তিনশো জন মানুষ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য যেতেন। কিন্তু স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে পড়ে থাকায় সবাই সংকটে পড়ে গিয়েছেন। চিকিৎসার জন্য এখন তাদের ১২ কিলোমিটার দূরে মেমারি হাসপাতাল, ১০ কিলোমিটার দূরে জামালপুর হাসপাতাল ও ৩০ কিলোমিটার দূরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যাওয়া ছাড়া আর কোনও দ্বিতীয় পথ খোলা নেই। জামালপুর ব্লকের যুগ্ম বিডিও গৌতম দত্ত বলেন, বাসিন্দাদের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, ‘গোটা বিষয়টি জানি। আদালতের বিচারাধীন থাকায় সমস্যা হচ্ছে। তবে এলাকার মানুষজনের যাতে সমস্যা না হয় তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সভাধিপতি আশ্বাস দিয়েছেন।’