বৃষ্টিতে পুকুর উপচে মাছ চাষে ক্ষতি, সাহায্যের আর্জি

89
পুকুর পাড়ে হতাশ হয়ে বসে চাঁচলের এক মাছ চাষি

চাঁচল: টানা বৃষ্টিতে খাল-বিল-পুকুরের জল উপচে ভেসে গিয়েছে মাছ। ফলে ক্ষতির মুখে চাঁচল মহকুমার মাছচাষিরা। ঋণ নিয়ে কেউ নিজের পুকুরে মাছ চাষ করেছেন। কেউবা অন‍্যের পুকুর লিজ নিয়েছেন। এখন ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা।

টানা বৃষ্টির জেরে চাঁচল মহকুমায় বিপুল পরিমাণ মাছ ভেসে গিয়েছে বলে আশঙ্কা মৎস‍্য দপ্তরের। মৎস‍্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁচল মহকুমায় কয়েক হাজার পুকুর রয়েছে। এছাড়াও পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের অধীনে খাল-বিলও রয়েছে। আবার কোথাও সমিতি তৈরি করে মাছ চাষ হয়। এছাড়াও মহকুমা এলাকায় বহু চাষি এমজিএনআরইজিএ প্রকল্পে লাভের আশায় চাষের জমি কেটে পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন।

- Advertisement -

মোতিহার গ্রাম পঞ্চায়েতের ভীমপুর গ্রামের মৎস‍্যজীবী সফিজান জানান, ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন। এখন কিভাবে পরিশোধ করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। সরকারি সাহায্য না মিললে আত্মহত্যা ছাড়া কোনও পথ নেই। সামসী ভগবানপুর গ্রামের মাছচাষি একরামুল হকের বক্তব্য, তিনি লিজে পুকুর ও বিল নিয়ে মাছ চাষ করেন। পোনা মাছ সহ সব পুকুর ও বিলের মাছ ভেসে গিয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর কুড়ি লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই বিষয়ে চাঁচল-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির মৎস‍্য কর্মাধ‍্যক্ষ মির্জা বেগম জানান, তার এলাকায় প্রায় ৭০০ হেক্টর পুকুরে মাছ চাষ হয়ে থাকে। বৃষ্টির পর এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায় সিংহভাগ পুকুরের মাছ জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। মাছচাষিদের সরকারি সাহায্যের বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই পঞ্চায়েত সমিতিকে নিয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। চাঁচল মহকুমা শাসক সঞ্জয় পাল-এর বক্তব্য, ক্ষতিপূরণের রিপোর্ট তৈরি করতে মহকুমার ছয়টি ব্লকের মৎস্য দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।