বিডিওকে চিঠি লিখে মৃত্যুর কথা জানালেন দম্পতি

218

চাঁচল: ঢিলছোড়া দূরত্বে পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি। তারপরেও জোটেনি বার্ধক্য ভাতা বা বাংলা আবাস যোজনার পাকা ঘর। দুয়ারে সরকারে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্য আবেদন করলেও তাও অধরা। তাই চাঁচল শহর লাগোয়া আমলাপাড়ার বাসিন্দা বৃদ্ধ দম্পতি এখন আক্ষরিক অর্থেই অসহায়। ষাটোর্দ্ধ গৌর দাস একসময় ভ্যানরিকশা চালাতেন। এখন চোখে দেখতে পারেন না। এক ছেলে মারা গিয়েছেন। আরেক ছেলে অন্যত্র থাকেন। কোনও রকমে অসুস্থ স্ত্রী গয়া দাসকে নিয়ে ছাপড়া ঘরে থাকেন বৃদ্ধ। কোনওরকমে র‍্যাশনের চালটুকু দিয়ে নুন-ভাত খেয়ে দিন কাটে দম্পতির। সরকারি সাহায্য না পেলে তাঁদের যে মৃত্যু ছাড়া গত্যন্তর নেই সেই কথা ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন ওই দম্পতি। জানানো হয়েছে এলাকার বিধায়ককেও।

গয়াদেবীর অভিযোগ, পঞ্চায়েত সদস্যার দাবিমতো ২০ হাজার টাকা দিতে পারেননি বলে সরকারি ঘর মেলেনি। যদিও স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা পম্পা চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বাড়িতে বসে থাকলে কেউ কিছু করে দেবে না। আবাস যোজনার তালিকায় নাম থাকলেও উনি পঞ্চায়েতে নথি জমা দেননি বলে ঘর পাননি।’

- Advertisement -

চাঁচলের বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ জানান, সরকারি সাহায্য না পেয়ে কেউ মৃত্যুর কথা ভাবছেন এটা ভীষণ লজ্জার। তাঁর কাছে অভিযোগ এসেছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন। চাঁচল-১ ব্লকের বিডিও সমীরণ ভট্টাচার্য ওই অসহায় দম্পতির স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, ভাতা ও আবাস যোজনার পাকা ঘরের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ভেবে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।