সত্তর বছরেও খেলাই জীবন দিনহাটার অ্যাথলিটের

84

প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা : বয়স যে কেবল একটা সংখ্যামাত্র, তার প্রমাণ অনেকদিন আগেই দিয়েছেন চণ্ডীগড়ের ১০৩ বছরের প্রবীণ ক্রীড়াবিদ মন কৌর। আর সেই আদর্শকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে চান বছর সত্তরের চন্দন সেনগুপ্ত। দিনহাটা মদনমোহনপাড়ার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা চন্দনবাবু একজন ভেটেরান অ্যাথলিট। তিনি সত্তরের দশকে ফুটবল দিয়ে নিজের ক্রীড়াজীবন শুরু করলেও তৎকালীন ক্রীড়া প্রশিক্ষক সমর মুখোপাধ্যায়ের কথায়  ফুটবল ছেড়ে দৌড় নিয়ে চর্চা শুরু করেন। আর তখন থেকে দৌড়ই হয়ে ওঠে চন্দনবাবুর ধ্যানজ্ঞান। ১৯৭১ সালে প্রথমবার দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে শিলিগুড়িতে যান। সেখানে ৪০০ ও ৮০০ মিটার দৌড়ে চ্যাম্পিয়নও হন। এরপর ডাক আসে বাটা স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে খেলার। ওই ক্লাবের হয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।
আলিপুরদুয়ার একটি মিটে ৪০০ ও ৮০০ মিটার দৌড়ে চ্যাম্পিয়ন হলে এনএফ রেলওয়ে ক্রীড়া বোর্ডের নজরে এলে তারা চন্দনবাবুকে দলে নিয়ে নেয়। এরপর সেখানেই শুরু হয় তাঁর জীবনের পরবর্তী অধ্যায়। এনএফ রেলওয়ে তাঁকে দিনহাটা স্টেশনে টিকিট পরীক্ষকের একটি চাকরি দেয়। এরপর চাকরি ও খেলাধুলা সমান্তরালে চলতে থাকে। চন্দনবাবু বলেন, এনএফ রেলওয়ের হয়ে আসাম স্টেট মিটে আটবার স্টেট চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আটবার দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া রেলওয়ে অ্যাথলেটিক্স মিটে অংশগ্রহণ করি। এরপর ২০১২ সালে চাকরি থেকে অবসর নিই।

কিন্তু এরপরেও থেমে না থেকে প্রবীণ ক্রীড়াবিদ হিসেবে শুরু করেন জীবনের আরেকটি অধ্যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভেটেরান্স স্পোর্টস মিটে অংশগ্রহণ শুরু করেন। আর এখানেও সাফল্য মেলে। ২০২০ মেদিনীপুরের ভেটেরান্স স্টেট মিটে ৫ কিলোমিটার হাঁটা প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক লাভ করেন তিনি। আবার সেই বছরের কেরলে সর্বভারতীয় ভেটেরান্স অ্যাথলিট মিটে ৫ কিলোমিটার হাঁটা প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান লাভ করেন। মহকুমার ষাটোর্ধ্ব মহিলা ও পুরুষদের নিয়ে তৈরি করেন ভেটেরান্স স্পোর্টস অ্যান্ড ফিটনেস ক্লাব। সেখান থেকেও প্রতিযোগীরাও  বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছেন। তিনি জানান, তাঁর জেতা স্বর্ণপদকের সংখ্যা শতাধিক। এ ছাড়া বহু রৌপ্য ও ব্রোঞ্জের পদক রয়েছে। তবে তার জন্য আজও তাঁকে চালিয়ে যেতে হয় কঠোর অনুশীলন। প্রতিদিন সকালে আড়াই ঘণ্টা করে অনুশীলন করেন তিনি। শুধু তাই নয়, অ্যাথলিট হিসেবে যে জীবনশৈলী মেনে চলতে হয়- তাও তিনি কঠোরভাবে মেনে চলেন।

- Advertisement -

চন্দনবাবু বলেন, দিনহাটায় একসময় একাধিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আযোজন হত। কিন্তু বর্তমানে সে ধরনের প্রতিযোগিতা না থাকায় গ্রামবাংলার সেই প্রতিভাবান  অ্যাথলিটদের আর পাওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষকে এগিয়ে আসার আবেদন জানান।