ভোটের মুখে বন্ধ হয়ে গেল ডুয়ার্সের এই চা বাগান

117

নাগরাকাটা: বন্ধ হয়ে গেল উত্তরবঙ্গের সবথেকে বড় চা বাগান চ্যাংমারি। মঙ্গলবার গভীর রাতে সেখানকার পরিচালকরা বাগান ছেড়ে চলে যান। বাগান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সেখানে শ্রমিকদের একাংশ অপ্রয়োজনে এবং অযৌক্তিকভাবে বাগানের কাজকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছিলেন। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। সে কারণে তাদের কাছে বাগানে কর্মবিরতির ঘোষণা করা ছাড়া আর অন্য কোনও বিকল্প ছিল না। যদিও শ্রমিকদের বক্তব্য, বাগান কর্তৃপক্ষ তাঁদের সঙ্গে চরম বঞ্চনা শুরু করেছিল। শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল। এরই প্রতিবাদে তাঁরা মুখর হন। ইচ্ছাকৃতভাবে বাগান পরিচালকরা তাঁদের বিপাকে ফেলে এভাবে চলে গেল। নির্বাচনের মুখে ওই বাগানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে চ্যাংমারির শ্রমিক সংখ্যা ৫ হাজার। ১৫০০ হেক্টর আয়তনের চ্যাংমারি চা বাগানটি এর আগে ২০১৮ সালেও একবার শ্রমিক-মালিক অসন্তোষের জেরে বন্ধ হয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে ফের চালু হয়। এবারের সমস্যার সূত্রপাত বেশ কিছু শ্রমিককে সর্দার পদ থেকে চৌকিদার পদে নামিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে। শ্রমিকপক্ষ এই অভিযোগে গত মঙ্গলবার চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের ব্যানারে সেখানে একটি গেট মিটিংয়ের আয়োজন করে। তারপরই গভীর রাতে মালিকপক্ষ বাগান ছেড়ে চলে যান। বুধবার সকালে শ্রমিকরা কাজে গিয়ে দেখেন, পরিচালকদের কেউই নেই। এরপরই তাঁরা বুঝতে পারেন যে, বাগান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা একজোট হয়ে একটি সভা করেন। সেখানকার স্থানীয় একটি ক্লাবের সামনে ওই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

- Advertisement -

চ্যাংমারির বাসিন্দা ও লুকসান গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনোজ মুন্ডা বলেন, ‘বাগান কর্তৃপক্ষ চরম অন্যায় কাজ করেছে। শ্রমিকদের স্বার্থের কথা বলতে গেলেই প্রতিবার ম্যানেজার বাগান বন্ধ করে চলে যান। এর আগেও এখানে এমনটা হয়েছিল। বর্তমান ম্যানেজারকে আমরা আর চাই না। মঙ্গলবার গেট মিটিংয়ের পর তিনি দ্রুত একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হবে বলে জানিয়েছিলেন। তার আগে আমাদের সঙ্গে প্রতারিত করে বাগান ছেড়ে চলে গেলেন। দ্রুত যাতে বাগান খোলে তা পরিচালকদের নিশ্চিত করতেই হবে।’

ম্যানেজার কমলেশ কুমার ঝা বলেন, ‘এর আগে সম্পাদিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তি মোতাবেক কাজকর্মের বিষয়ে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছিল। যদিও তা শ্রমিকদের একাংশ না মেনে বাগানে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করছিলেন। বাইরে থেকে যে সমস্ত অস্থায়ী শ্রমিকরা কাজে আসেন তাঁদের কেউ ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। এতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল উৎপাদনের ওপর। আমাদের কাছে আর কোনও উপায় ছিল না। কর্মবিরতির বিজ্ঞপ্তি সংশ্লিষ্ট নানা মহলের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে, এদিন পরিচালকদের এমন সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাগানের সাধারণ শ্রমিকরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘মালিকপক্ষের এই পদক্ষেপ পুরোপুরি অযৌক্তিক।’