মেলেনি অ্যাম্বুল্যান্স, করোনা আক্রান্তের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা

325

জলপাইগুড়ি: কোভিড পজিটিভ রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে। মৃত যুবকের নাম সমীর মুন্ডা (১৮)। বাড়ি জয়পুর চা বাগানের জটিয়া লাইনে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে জ্বর আসে সমীরের। বুধবার ভোর পাঁচটা নাগাদ তাকে জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের পর তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তড়িঘড়ি সমীরকে বিশ্ব বাংলা কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক। এরপর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার এবং ওই যুবকের পরিবারের তরফে অ্যাম্বুল্যান্সকে ফোন করা হয়। তবে বারবার অ্যাম্বুল্যান্সকে ফোন করেও কোনও সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ। এমনকি, কোভিড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, এই টালবাহানার মাঝেই সকাল ন’টা নাগাদ সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের। অ্যাম্বুল্যান্স না আসার কারণে ওই যুবককে সময়মতো কোভিড হাসপাতালে পাঠাতে না পারায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। গোটা বিষয়টিতে স্বাস্থ্য দপ্তরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মৃতের পরিবারের লোকেরা। এমনকি, স্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান প্রধান হেমব্রম। জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের ঠিক উলটোদিকে মহিলাদের জন্য কোভিড কেয়ার সেন্টার রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে রোগীকে সেখানে কেন নিয়ে যাওয়া হল না সেই প্রশ্নও উঠেছে। গোটা ঘটনার জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে তদন্তরের দাবি করা হয়েছে।

- Advertisement -

এদিন ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ দাবি জানিয়েছে মৃতের পরিবার। যদিও জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার গয়ারাম নস্কর গাফিলতির দায় স্বীকার করতে চাননি।