সদ্যোজাত শিশু বদলের অভিযোগ, উত্তেজনা

95

রায়গঞ্জ: প্রসবের পর কর্তব্যরত নার্সরা জানিয়েছিলেন, পুত্র সন্তান হয়েছে। তার ঘণ্টাখানেক পরে জানানো হয় যে কন্যা সন্তান হয়েছে। এমনই অভিযোগ প্রসূতির পরিবারের সদস্যদের। এই ঘটনায় মঙ্গলবার ভোরে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। সদ্যোজাত শিশু বদলের অভিযোগ তুলে রায়গঞ্জ মেডিকেলের প্রসূতি বিভাগে বিক্ষোভ দেখান তাঁর আত্মীয় পরিজনরা। বিক্ষোভ সামাল দিতে পৌঁছোয় মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। কিছুক্ষণ পর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান সদ্যোজাত শিশুর বাবা ফুলকুমার নুনিয়া। পাশাপাশি রায়গঞ্জ থানাতেও বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রসূতির পরিবার। যদিও লিখিত অভিযোগের কথা অস্বীকার করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিয়াগঞ্জ থানার মাজিহাট গ্রামের বাসিন্দা ফুলকুমার নুনিয়ার স্ত্রী পারুল মুনিয়া সোমবার রাত ১০টা নাগাদ প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হন। মঙ্গলবার ভোরে তাঁর একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন বলে পরিবারের সদস্যদের দেখানো হয়। কিছুক্ষণ পর এক স্বাস্থ্যকর্মী রুপসেনা বেগম ১০০ টাকা বকশিশ চায়। প্রসূতির স্বামী সেই টাকা দিয়েও দেয়। প্রসূতির পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে পুত্র সন্তান দেখানো হল। তার দুই ঘণ্টা বাদে কার্ডের মধ্যে লেখা হয়, কন্যা সন্তান। সেখানেই ফুলকুমার নুনিয়ার টিপ সই নিয়ে নেওয়া হয়। এরপরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের লোকজন। বর্তমানে ওই প্রসূতি রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্রসূতি বিভাগ (পোস্টনেটাল)-এ চিকিৎসাধীন।

- Advertisement -

ওই প্রসূতির স্বামী ফুলকুমার নুনিয়া বলেন, ‘হাসপাতলে এত নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে শিশু বদল হয়ে যায়?’ সঠিক তদন্ত করে পুত্র সন্তান তাঁদের হাতে তুলে দিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।’ যদিও মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, শিশু বদলের ঘটনার যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা ঠিক নয়। ভুল করে মেয়ের বদলে ছেলে বলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, ‘একই অপারেশন থিয়েটারে দুজন মহিলার সিজার হয়েছে। একজনের মেয়ে একজনের ছেলে হয়েছে। সদ্যোজাত শিশুকন্যার পরিবারকে ভুলবশত ছেলে বলে জানানো হয়েছে। যদিও আমাদের ভুল আমরা স্বীকার করে নিয়েছি।’