সবজি বাজার সরানোর নামে তাণ্ডব, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা

120

রামপুরহাট: বাজার সরানোর নামে তৃণমূল নেতার উপস্থিতিতে চলল তাণ্ডব। ঝুড়ি নিয়ে ফুটপাতে বসে থাকা সবজি ও ফল ব্যবসায়ীদের ত্রিপলের ছাউনি ভেঙে দেওয়া হয়। পুলিশের সামনেই চলে লুটপাট। কান্নায় ভেঙে পড়েন দিন আনি দিন খাওয়া পরিবারগুলির সদস্যরা। সেই ছবি তুলতে গিয়ে চিত্র সাংবাদিককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। কেড়ে নেওয়া হয় তাঁর মোবাইলও।

বীরভূমের আমদপুর-কাটোয়া রাস্তায় কীর্ণাহারে নিকাশিনালার উপর বসে অস্থায়ী সবজি বাজার। গ্রামগঞ্জের কিছু মানুষ দু-তিন ঘণ্টা অস্থায়ীভাবে সেখানে ব্যবসা করে সংসারের অভাব মেটায়। অভিযোগ, শুক্রবার সকালে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান শিবরাম চট্টোপাধ্যায়, দলের নানুর ব্লক সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্যের উপস্থিতে সেই বাজার তুলে দেওয়া হয়। লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যবসায়ীদের সবজি ও ফল। অস্থায়ী ছাউনি মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের সামনেই চলে তাণ্ডব। সেই ছবি সংগ্রহ করতে গেলে একটি দৈনিক সংবাদপত্রের চিত্র সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। তাঁকে বেধড়ক মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

এই ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। প্রতিবাদে তাঁরা আমোদপুর-কাটোয়া রাস্তা অবরোধ করে। ঘণ্টাখানেক পর পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ উঠে যায়। সীমা দলুই নামে এক মহিলা সবজি ব্যবসায়ীর অভিযোগ, প্রধান গুন্ডাবাহিনী নিয়ে এসে সব লুট করে নিয়ে গিয়েছে। তাঁদের অস্থায়ী ছাউনি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

পঞ্চায়েত প্রধান শিবরাম চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘রাস্তায় যানজট মুক্ত করতে সকলকে সুপার মার্কেটে উঠে যাওয়ার আবেদন করেছিলাম। মাইকে করে প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা কেউ সরে যাননি। তাই এদিন আমরা তাঁদের তুলতে গিয়েছিলাম। সে সময় কিছু দুষ্কৃতী আমাদের মধ্যে মিশে গিয়ে লুটপাট চালায়। তবে আমাদের কেউ লুটপাট চালাননি।’

বিজেপি নেতা তারকেশ্বর সাহা বলেন, ‘কয়েকটি গ্রামের গুন্ডা বাহিনী নিয়ে গিয়ে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। আমাদের কর্মীর দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। খুচরো সবজি ব্যবসায়ীদের জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে। রাজ্যে অরাজকতা চলছে। এর শেষ কোথায় কেউ জানেন না।’