চরতোর্ষা ডাইভারসন কারও ভোগান্তি, কারও রোজগারের উৎস

360

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: চলতি বর্ষায় এখনও পর্যন্ত ৮-১০ বার জলে ডুবেছে চরতোর্ষা ডাইভারসন। সেজন্য ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ারের মধ্যে সড়কপথে বারবার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। এই নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের অন্ত নেই। এদিকে মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ জল কমলেই তাপ্পি মেরে ডাইভারসন সারাই করে বলে অভিযোগ। নতুন সেতুর কাজ বিশবাঁও জলে। এই পরিস্থিতিতে চরতোর্ষা ডাইভারসন এলাকার একদল কিশোর, যুবকের কাছে উপার্জনের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা নদীর জল কখন বাড়ে, সেদিকেই তাকিয়ে থাকেন। কারণ, ডাইভারসনে জল উঠলেই মোটর বাইক, সাইকেল পার করিয়ে তাঁদের কিছুটা উপার্জন হয়। কিছু মানুষও কাজের তাগিদে টাকা দিয়ে ডাইভারসন পার হন।

মঙ্গলবার রাতে পাহাড়ে বৃষ্টি হওয়ায় আজ সকালে চরতোর্ষা ডাইভারসনের উপর দিয়ে জল বইতে থাকে। জল বাড়তেই খুশির হাওয়া এলাকার যুবক, কিশোরদের মুখে। এদিনও তাঁরা বহু মানুষের বাইক, সাইকেল টাকার বিনিময়ে পার করিয়ে দিয়েছেন।

- Advertisement -

২০১৭ সালের বন্যায় চরতোর্ষার কাঠের সেতু ভেঙে যায়। ফালাকাটা-সলসলাবাড়ির এই রাস্তায় মহাসড়ক তৈরির কারণে আর বিকল্প সেতু তৈরি হয়নি। ভাঙা সেতুর পাশে তৈরি করা হয় হিউম পাইপ বসিয়ে ডাইভারসন। প্রতি বছর বর্ষায় এই ডাইভারসনের কারণে ভোগান্তি হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের। একটু বেশি বৃষ্টি হলেই ডাইভারসনের উপর দিয়ে জল বয়ে যায়। কখনও জলের তোড়ে ডাইভারসনের একাংশ ভেঙেও যায়। আবার জল কমতেই মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ ডাইভারসন সারাই করে। এদিকে এলাকার অনেকের কাছে এই পরিস্থিতি উপার্জনের পথ তৈরি করে দিয়েছে।

চরতোর্ষা ডাইভারসন কারও ভোগান্তি, কারও রোজগারের উৎস| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

শালকুমারহাট, পলাশবাড়ি, মেজবিল, যোগেন্দ্রনগর, শিশাগোড়, কালীপুর, পারপাতলাখাওয়া, বংশীধরপুর সহ বিভিন্ন এলাকার বহু মানুষ কাজের তাগিদে বা বিশেষ কারণে রোজ ফালাকাটায় যান। পুরুষদের অধিকাংশই মোটরবাইক ও সাইকেলে যাতায়াত করেন। কিন্তু তাঁরা চরতোর্ষা ডাইভারসন জলমগ্ন হয়ে পড়লে বিপাকে পড়েন। যাত্রীবাহী বাস বা ছোটো গাড়ি চলাচল বন্ধ হলেও বাইক বা সাইকেল আরোহীদের ফালাকাটায় যাওয়ার তাগিদ থাকেই। এই সুযোগে স্থানীয় প্রায় ৪০-৫০ জন কিশোর, যুবক ঝুঁকি নিয়ে টাকার বিনিময়ে বাইক, সাইকেল পার করিয়ে দেন। মোটর বাইক ৫০-৬০ টাকায় এবং সাইকেল ১০ টাকায় পার করানো হয়। তাঁরা কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর সমান জল ভেঙে বিপজ্জনকভাবে এই কাজ করে দিনে জনপ্রতি তিন-চারশো টাকা উপার্জন করেন। এজন্য যুবকদের ৫-৭টি দল রয়েছে। প্রতি দলে ৭-৮ জন করে সদস্য রয়েছেন। আবার কেউ দল ছাড়াও এই কাজ করে ২০০-৩০০ টাকা রোজগার করছেন। তাঁদের মধ্যে শচীন বর্মন নামে একজন বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির জন্য অন্যদিকে রোজগার সেরকম হচ্ছে না। তাই চরতোর্ষার জল কখন বাড়ে সেই অপেক্ষায় থাকি।’ তপন, বিল্টু, নান্টু, সমীররা জানান, পরিশ্রমের বিনিময়ে কিছু টাকা উপার্জন হয়। কাউকে জোর নয়, কেউ যেতে চাইলেই পার করানো হয়।

এদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এভাবে টাকা দিয়েই প্রচুর মানুষ চরতোর্ষা ডাইভারসনের উপর দিয়ে বাইক, সাইকেল পার করিয়ে নেন। বাইক আরোহী শিশাগোড়ের স্বপন সরকার বলেন, ‘ব্যবসার কারণে আমাকে ফালাকাটা যেতেই হবে। এজন্যই ৫০ টাকা দিয়ে বাইক পার করিয়ে নেই।’

যদিও স্থানীয় প্রশাসন এই বিপজ্জনক পারাপারকে সমর্থন করেনি। ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান চঞ্চল অধিকারি বলেন, ‘যাঁরা টাকা দিয়ে পার হচ্ছেন এবং যাঁরা পার করাচ্ছেন, দুটোই অবৈধ।’ মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থার জেনারেল ম্যানেজার সমীরণ ঘোষ বলেন, ‘চরতোর্ষার পাশে প্রচুর নির্মাণ সামগ্রী রাখা আছে। জল কমলেই ডাইভারসন সারাই করে দেওয়া হয়।’