কম দামি অসমের ইটে অশনিসংকেত আলিপুরদুয়ার জেলায়

122

রাজু সাহা, শামুকতলা : মানে হয়তো ডুয়ার্সের ইটের সমকক্ষ নয়। কিন্তু দাম অনেকটাই কম। তাই অসমের ইট আলিপুরদুয়ার সহ ডুয়ার্সের বাজারে রীতিমতো জাঁকিয়ে বসেছে। এর জেরে আলিপুরদুয়ার জেলার বেশ কয়েকটি ইটভাটা ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কয়েকটি খুবই খারাপ অবস্থায়। পরিস্থিতি এমনই প্রতিকূল হলে আগামীতে ইটভাটা বন্ধ করে দিতে হবে বলে আশঙ্কা ছড়িয়েছে। পাশাপাশি, হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বর্ষার পর জেলার সমস্ত ইটভাটা খোলে। প্রতিকূল পরিস্থিতির জেরে এবারে আলিপুরদুয়ার জেলার ৬০টি ইটভাটার মধ্যে এখনও মাত্র নয়টি খুলেছে। বাকি মালিকরা ইটভাটা চালু করতে সাহস পাচ্ছেন না। তাঁদের অভিযোগ, অসমের ইটের দাপটে ডুয়ার্সের ইটভাটাগুলি খুবই সংকটের মধ্যে দিয়ে চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার কোনও উদ্যোগ না নিলে ইটভাটাগুলি বন্ধ করে দিতে হবে। পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে তাঁরা দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবিতে সরব হয়েছেন।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার ব্রিক ফিল্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হরেন পাল বলেন, কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গে কয়েকশো ইটভাটা বন্ধ হয়ে আছে। আমরাও ভাটা চালাতে পারছি না। অসমের  ইট কম দামে মিলছে। ভুটানে ইট যেত, কিন্তু অতিমারিতে সেদেশে ইট যাচ্ছে না। ইট বিক্রি না হওয়ায় ভাটাগুলি আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অবস্থার পরিবর্তন না হলে এই ইটভাটাগুলির পক্ষে উঠে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। পরিস্থিতির জেরে ইটভাটার লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ হারাচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি উদ্যোগ প্রযোজন। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ দেবজিৎ সরকার বলেন, আলিপুরদুয়ার জেলায় ৬০টি ইটভাটা রয়েছে। একেকটি ভাটায় গড়ে ৩০০ শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। শুধুমাত্র ইটভাটার ওপরই আলিপুরদুয়ার জেলায় দুই লক্ষ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে। আমার বাড়ির আশপাশে বেশ কয়েকটা ইটভাটা বন্ধ হয়ে আছে। এর জেরে অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

কী কারণে এই সমস্যা? ইটভাটায় প্রচুর পরিমাণে কয়লার প্রয়োজন হয়। অসম থেকে কয়লা পশ্চিমবঙ্গে আসে। এতদিন ১০-১২ হাজার টাকায় এক গাড়ি কয়লা মিলত। সেই দাম চার-পাঁচ হাজার টাকা বেড়েছে। ব্যবসাযীদের অভিযোগ, বৈধভাবে কয়লা আনা হলেও অসম সীমানায় গেটে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে কয়লা এ রাজ্যে আসে না। অন্যদিকে, অসমের ইটভাটাগুলির কয়লা পেতে সে হ্যাপা নেই। তারা অনেক কম দামে কয়লা পায়। ইট বানাতে যে মাটি লাগে অসমে সেই মাটির দামও কম। কম মজুরিতে শ্রমিকও মেলে। আলিপুরদুয়ার জেলার ভাটার ইটের থেকে অসমের ইটের আয়তন ছোট। তাই দাম কম হলেও তা পুষিয়ে যায়।

ইটভাটা মালিকদের একাংশের অভিযোগ, অতিমারির জেরে অনেক ক্ষতি হয়েছে। মজুত ইটই বিক্রি হয়নি। এই অবস্থায় নতুন ইট তৈরি করে কোনও লাভ নেই। ইটভাটার এক মালিকের অভিযোগ, ইটে পাঁচ শতাংশ জিএসটি। কিন্তু  অসমের বেশিরভাগ ইট এ রাজ্যে জিএসটি ফাঁকি দিয়ে আসছে। এই কারণে অসমের ইট এখানে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। আলিপুরদুয়ার পাল ব্রিক ফিল্ডের মালিক সুনীল পাল বলেন, আমাদের জেলার ইটভাটাগুলি অসমের ইটের দামের সঙ্গে পেরে উঠছে না। অন্যান্যবার এই সময় জেলার সমস্ত ভাটা চালু হয়ে যায়। কিন্তু এবারে পরিস্থিতি অন্য। ইট বিক্রি না হলে আলিপুরদুয়ার জেলার ভাটা মালিকদের পুঁজি ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অনেকের কাছে ইটভাটা বন্ধ করা ছাড়া কোনও উপায় নেই বলে তাঁর আশঙ্কা।