দক্ষিণ দিনাজপুরে স্বল্পমূল্যের স্ট্যাম্প পেপার উধাও

পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট : দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সদর শহর বালুরঘাটে অবস্থিত জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে মিলছে না ১০ টাকা বা ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার। এমনকি ৫০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারও অমিল হয়ে পড়ছে মাঝেমধ্যেই। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে স্ট্যাম্প পেপার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। ব্যস্ততার মধ্যেও সারাদিন জুড়ে বিভিন্ন স্ট্যাম্প পেপার বিক্রেতাদের কাছে হণ্যে হয়ে ঘুরেও কম মূল্যের স্ট্যাম্প পেপার তাঁরা পাচ্ছেন না। অবশেষে ১০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার কিনে নিয়ে গিয়ে কাজ সারতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বালুরঘাটে জেলা প্রশাসনিক ভবন চত্বরে রয়েছে জেলা রেজিস্ট্রি অফিস। প্রশাসনিক ভবন থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে জেলা আদালত। আইনি কাজে আসা গ্রাম ও শহরের সাধারণ মানুষ স্ট্যাম্প পেপার কেনার জন্য নির্ভরশীল হয়ে পড়েন জেলা নিবন্ধকের কার্যালয় ভবনের নীচে বসা স্ট্যাম্প পেপার বিক্রেতাদের ওপর। এফিডেভিট থেকে শুরু করে অনেক কাজের ক্ষেত্রে কম মূল্যের স্ট্যাম্প পেপার দিয়ে কাজ চলে যায়। কিন্তু সেইসব কাজের জন্য ১০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। স্ট্যাম্প বিক্রেতাদের কাছে ১০ বা ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার কিনতে এসে কার্যত বেশীরভাগ সময়ই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে অথবা বেশি দামের স্ট্যাম্প পেপার কিনতে হচ্ছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। স্ট্যাম্প পেপার কিনতে এসে হয়রান হওয়া ক্রেতারা অভিযোগ করেন, যে কাজ ১০ টাকা বা ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে হয়ে যেত। তা বাধ্য হয়ে ১০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে করতে হচ্ছে। তার জন্য নির্দিষ্ট কাজ করতে এসে প্রয়োজনের চাইতে বেশি টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। যদিও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, রেজিস্ট্রি অফিসে ১০ টাকা বা ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার না পাওয়া যাওয়ার কোনও অভিযোগ কেউ জানায়নি। কেউ লিখিত আকারে অভিযোগ করলে তাহলে তদন্তে নামা যেত। তবু প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে খোঁজ করে পরবর্তীতে বিস্তারিত বলা যাবে।

- Advertisement -

স্ট্যাম্প পেপার কিনতে এসে সমস্যায় পড়া পতিরাম থেকে আসা আশিস মণ্ডল জানান, কিছু আইনি কাজের জন্য আমার ১০ টাকা বা ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সমস্ত স্ট্যাম্প বিক্রেতাদের কাছে ঘুরলেও তা পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে কিছুদিন আগে ৫০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার কিনেছি। এমনকি একদিন আগেও কাজ করতে এসে ১০০ টাকার নীচের কোনও স্ট্যাম্প পেপার পাইনি। বিগত ২-৩ দিনে আমার আট থেকে দশটি স্ট্যাম্প পেপার লেগেছিল। প্রত্যেকটি কাজেই আমি স্বল্প টাকার স্ট্যাম্প পেপার কিনতে পারিনি। এভাবে স্ট্যাম্প পেপার অমিল থাকায় সাধারণ মানুষকে প্রতি মুহূর্তে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে কড়া নজর দেওয়া দরকার। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষ নিরুপায় হয়ে পড়বে। প্রশাসনের অবিলম্বে স্ট্যাম্প পেপারে ঘাটতি মিটিয়ে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক করে তোলা উচিত।

রেজিস্ট্রি অফিসে স্ট্যাম্প পেপার কিনতে কামারপাড়া থেকে আসা ক্রেতা সন্তোষ মাহাতো জানান, ১০ বা ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে আমার কাজ হয়ে যাবে। দুদিন আগে ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার কিনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু না পেয়ে ঘুরে এসেছিলাম এই ভেবে যে দুদিন পরে ওই মূল্যের এলে কাজ করব। কিন্তু দুদিন পরেও ১০ বা ২০ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্প পেপার পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ৫০ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্প পেপার কিনতে গিয়ে আমায় ঘুরে আসতে হয়েছে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে ১০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার কিনতে হয়েছে। এইভাবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মূল্যের স্ট্যাম্প পেপার কেনার ফলে গ্রামেগঞ্জের অনেক দরিদ্র মানুষের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই সমস্যার সমাধান করা উচিত।

এই বিষয়ে এক স্ট্যাম্প পেপার বিক্রেতা জানান, প্রয়োজনের তুলনায় স্ট্যাম্প পেপারের যোগান অনেকই কম। তাই মানুষ স্বল্পমূল্যের স্ট্যাম্প পেপার পাচ্ছেন না। গত দুমাস ধরে মানুষের চাহিদার তুলনায় ১০ বা ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার সরবরাহ তেমন নেই। তাই আমরা তাদের হাতে সেই মূল্যের স্ট্যাম্প পেপার তুলে দিতে পারছি না। অল্প পরিমাণে স্বল্পমূল্যের স্ট্যাম্প পেপার থাকায় যারা আগে কিনতে আসছে তাদের দিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং পরে এলে তারা আর স্ট্যাম্প পেপার পাচ্ছেন না। তবে দু-একদিনের মধ্যেই অল্প মূল্যের স্ট্যাম্প পেপার সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

স্বল্পমূল্যের স্ট্যাম্প পেপারের ঘাটতি বিষয়ে ট্রেজারি অফিসার পার্থসারথি হালদার জানান, স্ট্যাম্প পেপার অমিল থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া কেউ আমাকে লিখিতভাবে স্বল্পমূল্যের স্ট্যাম্প পেপার না পাওয়ার কথাটি অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে বিষয়টিতে আগেই নজর দেওয়া যেত। তবে প্রশাসনের তরফে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ১০ বা ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার অমিল থাকার বিষয়টি তদন্ত করে তারপর পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো যাবে।