পাঁচ দশক ধরে বন্ধ থাকা অভিবাসন চেকপোস্টটি সচল করার দাবি

251

হলদিবাড়ি, ৬ ডিসেম্বরঃ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বন্ধ হয়ে থাকা হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেল রুটটি পুণরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় বন্ধ হয়ে থাকা অভিবাসন চেকপোস্টটি পুনরায় সচল করার দাবি জোরালো হয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের তরফে চলতি মাসে হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেল পথটি উদ্বোধনের তৎপরতা শুরু হয়েছে। কিন্তু, চেকপোস্ট ফের চালুর বিষয়ে কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। আর এটি বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় এলাকার অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ। এরসঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যবসায়ীরাও কাজ হারিয়ে অর্থনৈতিক সমস্যার মুখে পড়ছেন। মেখলিগঞ্জ মহকুমার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চ্যাংরাবান্ধায় চেকপোস্টটি আজও চালু থাকলেও, একইসঙ্গে হলদিবাড়ি ও গিতালদহের অভিবাসন চেকপোস্ট বন্ধ হয়ে যায়।

ভারত-পাক যুদ্ধের সময় উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাচীন ওই রেলপথটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে, হলদিবাড়ি থানা ঘেঁষা এলাকায় চালু ছিল অভিবাসন চেকপোস্টটি। সড়ক পথেই বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে যাতায়াত চলছিল। কিন্তু, ২০০২ সালে কেন্দ্র সরকারের তরফে হঠাৎ এক নোটিশ জারি করে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই চেকপোস্টের মাধ্যমে বৈধ ভিসা দিয়ে অনায়াসেই ভারত ও বাংলাদেশের মানুষ যাতায়াত করতে পারতেন। একইভাবে অন্য দেশ থেকে আসা বিদেশি পর্যটকরাও এই চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করতেন। সেসময় চেকপোস্ট ও হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেল যোগাযোগ চালু থাকার কারণে হলদিবাড়ির ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি হয়েছিল। স্থানীয় বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছিল। অর্থনৈতিকভাবে শ্রীবৃদ্ধি পেয়েছিল হলদিবাড়ি শহরের।

- Advertisement -

বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, আমেরিকার জঙ্গি হানার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্র সরকারের তরফে চেকপোস্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেসময় গোয়েন্দা দপ্তর সূত্রে খবর ছিল, ঘটনার মুলচক্রী ওসামাবিন লাদেন ও তার সাগরেদরা হলদিবাড়ি এই চেকপোস্টকে ব্যবহার করে ভারতে প্রবেশ করতে পারে।তাই, চেকপোস্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু, পরবর্তীতে তা আর চালু হয়নি। বর্তমানে চেকপোস্টের ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। আগাছায় ছেয়ে গিয়েছে ভবনটি। প্রাচীরের প্লাস্টার খসে পড়ছে। আগাছা জন্ম নিয়েছে। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এরসঙ্গে যুক্ত সকল প্রকার ব্যবসায়ী, শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েন। তাই স্থানীয়রা পুণরায় চেকপোস্টটি চালুর দাবি নিয়ে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মহম্মদ ইমরানের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিষয়টি আলোচনা স্তরে রয়েছে বলে তাঁদেরকে মহম্মদ ইমরান জানান।

হলদিবাড়ি শহরের সরকারি কর্মী নারায়ণচন্দ্র রায় বলেন, হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেল রুটটি পুণরায় চালু হলে, দুই দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রসার ঘটবে। স্বাভাবিকভাবে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যাতায়াত শুরু হবে।ট্রেনের মাধ্যমে পণ্য পাঠানো হলেও, ব্যবসায়ী যাতায়াতের জন্য ঘুরপথের চ্যাংরাবান্ধা চেকপোস্টটির ওপর নির্ভর করতে হবে। এটি চালু হলে সেই সমস্যা থাকবে না। স্থানীয় ব্যবসায়ী অনিলনাথ রায় বলেন, হলদিবাড়ি চেকপোস্টের ওপর নির্ভর করে তিনি বিদেশি মুদ্রার বদলের ব্যবসা শুরু করেন। চলছিলও রমরমিয়ে।আজও তাঁর লাইসেন্সটি চালু আছে।বর্তমানে ব্যবসা বন্ধ থাকায় তিনি আর্থিক সংকটে ভুগছেন।

হলদিবাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, চেকপোস্টটি চালু থাকার সময় সেটি ঘিরে বহু মানুষ বিভিন্ন রকম ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এলাকার আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছিল। বর্তমানে সেটি বন্ধ হওয়ায় অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। চাকুরী প্রার্থী বেকার যুবক অমিত সেন বলেন, এটি চালু হলে ভারত, নেপাল, ভুটান ও চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি হবে। একদিকে এলাকার বেকার যুবকদের কর্ম সংস্থানের যেমন ক্ষেত্র তৈরি হবে, তেমনি অপরদিকে অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধিও ঘটবে।