বিলুপ্তির সাত দশক পর ভারতে ফিরছে চিতা

92

নয়াদিল্লি : ১৯৪৭ সালে তাদের শেষবার দেখা গিয়েছিল। ওই বছর ৩টি এশীয় চিতা শিকার করেছিলেন রাজস্থানের করিয়ার মহারাজ রামানুজ প্রতাপ সিংদেও। জয়সলমীর জেলার করিয়া তহশিল (তৎকালীন করিয়া রাজ্য) ছিল চিতার ভারতীয় প্রজাতির শেষ বাসভূমি। গত ৭৪ বছরে এদেশে তাদের দেখা যায়নি। ১৯৫২-তে চিতাকে বিলুপ্ত প্রজাতি ঘোষণা করেছিল ভারত সরকার। সাতদশক পর এদেশে ফিরছে চিতা। তবে এশীয় চিতা নয়। আফ্রিকা থেকে চিতা এনে ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা করার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় বন, পরিবেশ ও জলবায়ুমন্ত্রক।

আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি চিতার দেখা মেলে নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায়। ওই দুদেশ থেকে ৩৫-৪০টি চিতাকে ভারতে আনা হবে। এদেশে চিতার বাসযোগ্যতা খতিয়ে দেখতে কয়েকদিনের মধ্যে নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিশেষজ্ঞদের ভারতে আসার কথা। চিতার প্রজনন, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে তাঁরা ভারতীয় বনকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

- Advertisement -

বনমন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ২০০৯-তে আফ্রিকা থেকে চিতা এনে ভারতে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ জন্য রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের ৬টি অভয়ারণ্যকে চিহ্নিত করা হয়। এগুলি হল মুকুন্দরা হিল টাইগার রিজার্ভ, শেরগড় ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি, গান্ধিসাগর ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি, কুনো ন্যাশনাল পার্ক, মহাদেব ন্যাশনাল পার্ক ও নৌরাদেহি ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি। প্রথম পর্যায়ে মধ্যপ্রদেশের কুনো ন্যাশনাল পার্কে ৮টি চিতার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পরিকল্পনা সফল হলে অন্যান্য অভয়ারণ্যকেও চিতার বাসভূমি হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবে বনমন্ত্রক। সব মিলিয়ে ৩৫-৪০টি চিতাকে আফ্রিকা থেকে আনা হবে। স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হতে ৫ থেকে ৬ বছর সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বে চিতার পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নজিরবিহীন। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকার চিতার ভারতে পুনর্বাসনের চেষ্টা সফল হলে এশীয় চিতাকে বিলুপ্তির পথ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। আফ্রিকা ও এশীয় চিতার বাসস্থানে খুব বেশি তফাত নেই। আফ্রিকার মতো এদেশের চিতা প্রায় শুকনো ঘাসের জমিতে শিকার করত। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটে এ ধরনের পরিবেশ রয়েছে। সেই কারণে চিতার পুনর্বাসনের জন্য মধ্যপ্রদেশের কুনো ন্যাশনাল পার্ককে বেছে নেওয়া হয়েছে। ২০০৬-তে এখানে এশীয় সিংহের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। গুজরাট থেকে সিংহ আনার সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রয়েছে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকায় সিংহ ও চিতা পাশাপাশি বাস করে। চিতার পর কুনোতে সিংহদের পুনর্বাসন করা হলেও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ২৬১ বর্গকিলোমিটারে ছড়ানো এই পার্কে প্রচুর চিতল, সম্বর, নীলগাই ও বুনোশূকর পাওয়া যায়। ফলে চিতার খাবারের সমস্যা হবে না। বন্যপ্রাণীবিদ রঞ্জিত সিং বলেন, ইন্দিরা গান্ধি প্রথম চিতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেসময় ইরান আমাদের চিতা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। চিতা সংরক্ষণের জন্য ভারতের অভয়ারণ্যগুলিকে আরও সুরক্ষিত করার প্রয়োজন ছিল। সেই কাজ শেষ হওয়ার আগেই এখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা হয়ে যায়। ইরানেও পালাবদল হয়। আফ্রিকার চিতা এদেশে মানিয়ে নিলে তা বন্যপ্রাণী পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে  গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসাবে গণ্য হবে।