উদ্বোধনই সার নতুন সেতুর কাজ শুরু হয়নি

183

ক্রান্তি : মাল ব্লকের রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের কোদালকাটিতে চেল নদীর উপর শোলমারি সেতুটি নতুন করে তৈরি হওযার কথা ছিল। গত ফেব্রুযারি মাসে ঢাকঢোল পিটিযে কাজের উদ্বোধনও করা হয। কিন্তু, চারমাস পরও সেতুর কাজ শুরু হযনি। এদিকে, সেতুর যা অবস্থা তাতে যে কোনও মুহূর্তে বড়সড়ো দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয বাসিন্দারা। দ্রুত সেতুর কাজ শুরু করার দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা। রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল মোতালেব হোসেন অবশ্য বলেন, ‘লকডাউনের কারণেই সম্ভবত কাজ শুরু করা যাযনি। গ্রামবাসীদের চলাচলের সমস্যার কথা আমরা জেলা পরিষদকে জানিয়েছি। দ্রুত কাজ শুরু করার ব্যাপারে জেলা পরিষদকে আবেদন জানাব।’

স্থানীয সূত্রে খবর, কোদালকাটি থেকে চেল নদীর পাড় পর্যন্ত প্রায তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পিচের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। সেতুটি ওই রাস্তাটির মাঝেই রয়েছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, রাস্তার কাজের সমযই প্রশাসন এবং রাস্তার কাজের বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদারের কাছে সেতু সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে বারবার দরবার করা হলেও বিষযটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। গ্রামবাসীরা এরপর সেতু সংস্কারের দাবিতে সরব হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর জেলা পরিষদ থেকে নতুন করে সেতু তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

- Advertisement -

এর মধ্যে দিন-দিন সেতুর অবস্থা খারাপ হতে শুরু করেছে। সেতুতে বড় গর্ত দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসীরা জানান, প্রতিদিন কয়েকশো মানুষ এই সেতু দিযে যাতায়াত করেন। পণ্যবাহী গাড়ি, বাইক, টোটো প্রভৃতি যানবাহনও নিযমিত চলাচল করে। এলাকার বহু ছাত্রছাত্রী রাজাডাঙ্গা এবং ক্রান্তি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়তে যায়। গ্রামবাসীরা দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করতে সেতুটির নীচে বাঁশ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসী শাইবুল হক বলেন, ‘সেতুটির বয়স প্রায় ৩০ বছর। কিন্তু, আজ পর্যন্ত এর সংস্কার করা হযনি। অবিলম্বে সেতুর কাজ শুরু করার দাবি জানাচ্ছি।’ অপর বাসিন্দা আজগর আলি বলেন, ‘এই সেতু দিয়ে অনেক কম সময়ে মালবাজারে যাওয়া যায়। সেতুটি ভেঙে গেলে যাতায়াত একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। স্থানীয জেলা পরিষদ সদস্য কৃষ্ণা রায় বলেন, ‘জেলা পরিষদের প্রায় ৩ কোটি টাকায় সেতুর কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। মাঝে লকডাউনের জন্য কাজ বন্ধ ছিল। এখন বর্ষা চলে আসায় সেতুর কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। বৃষ্টি কিছুটা কমলেই দ্রুত সেতুর কাজ শুরু হবে।’

ছবি- কোদালকাটিতে চেল নদীর সেতুর এমনই হাল।

তথ্য ও ছবি- কৌশিক দাশ