রাসায়নিকে চোবানো হচ্ছে কলা, পাকছে কয়েক ঘণ্টায়

495

শুভজিত্ পণ্ডিত, বারবিশা : আট থেকে আশি কমবেশি সকলেই কলা খেতে ভালোবাসেন। পুষ্টিগুণের জন্য বাজারে কলার কদর আছে যথেষ্টই। তবে, আমরা যেসব কলা খাচ্ছি সেগুলি আদৌ কতটা নিরাপদ তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কারণ এক শ্রেণির ব্যবসায়ী কাঁচা কলা অল্প সময়ে পাকানোর জন্য রাসায়নিক ব্যবহার করছেন। কাঁচা কলাকে রাসায়নিকে চোবানো হচ্ছে। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কাঁচা কলা পেকে যাচ্ছে। আর রাসায়নিক মিশ্রিত সেসব কলা খেয়ে সাধারণ মানুষ অজান্তেই নিজের ক্ষতি করছেন। উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এর তদন্তে বারবিশায় কলা পাকানোর এমন অসাধু কারবারের ছবি ধরা পড়েছে।

রাসায়নিকে চোবানো হচ্ছে কলা, পাকছে কয়েক ঘণ্টায়| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaআলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম ব্লকের অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র হল বারবিশা। এখানে পাইকারি ও খুচরো বাজার প্রতিদিনই বসে। এই বাজারে ব্লকের বিভিন্ন জায়গা ও নিম্ন অসমের মানুষ প্রতিদিন বাজার করতে আসেন। বারবিশা বাজারের কিছু ব্যবসায়ী কলা পাকাতে রাসায়নিক ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই রাসায়নিকটির নাম ইথিফন ৩৯ এসএল। প্রথমে ওই রাসায়নিক জলে মেশানো হয়। তারপর রাসায়নিক মিশ্রিত সেই জলে কাঁচা কলা কিছুক্ষণ চুবিয়ে রাখা হয়। এর প্রভাবে মাত্র কয়েক ঘণ্টায পেকে যায় কাঁচা কলা। আর ক্রেতারা অজান্তে ওই সব কলাই বাজার থেকে কিনছেন। যা খেয়ে বিভিন্ন রোগও হচ্ছে। তবে, প্রশাসন জানিয়েছে, হাট-বাজারগুলিতে অভিযান শুরু হবে।

- Advertisement -

কী এই ইথিফন ৩৯ এসএল? এই রাসায়নিক ফলের রং পরিবর্তনে ও দ্রুত ফল পাকাতে সাহায্য করে। তবে, ইথিফন ৩৯ এসএল মানব শরীরের যথেষ্ট ক্ষতি করে। এর প্রভাবে ডায়ারিয়া, পাকস্থলির প্রদাহ, অ্যাসিডিটি, হজমের সমস্যা সহ মানব দেহে নানা সমস্যা হতে পারে। এছাড়া ক্যানসারের ঝুঁকিও রয়েছে। বারবিশার বাসিন্দারা জানান, হাট-বাজারে ভেজাল খাদ্য সামগ্রী বিক্রি বন্ধে প্রশাসন কোনো অভিযান চালায় না। এদিকে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলায় ওই রাসায়নিক মেশানো হলে তা কলাতে থেকে যায়। কলার মাধ্যমে ওই রাসাযনিক শরীরে ঢুকে মস্তিষ্কে অক্সিজেন পরিবহণে বিঘ্ন ঘটায়।

এবিষয়ে কুমারগ্রামের বিএমওএইচ মিজানুল ইসলাম বলেন, রাসায়নিক মেশানো খাবার খেতে আমরা সব সময় সাধারণ মানুষকে বারণ করে থাকি। ওই রাসায়নিক থেকে পেটের সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও বিভিন্ন রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সকলের আরও সচতেন হওয়া প্রয়োজন। এক কলা ব্যবসায়ী বিষযটি স্বীকার করে নিয়ে জানান, পুজোর মরশুমে চাহিদা থাকায় তাড়াতাড়ি কলা পাকাতে রাসায়নিক ব্যবহার করতেন, তবে এখন কিছুই মেশান না। এবিষযে বারবিশা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক কার্তিক সাহা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে, ব্যবসায়ীরা এমন কিছু করে থাকলে তাঁদের সচেতন করা হবে। এ ব্যাপারে ভল্কা-বারবিশা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রবোধকুমার বর্মন বলেন, পুজোর সময় এই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। তবে, রাসায়নিকের ব্যবহার রুখতে অভিযান চালানো হবে। যারা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।