অনলাইন ক্লাস করতে চুরি, কিশোরকে অভিনব শাস্তি পুলিশকর্মীর

1042

চেন্নাই: বিনোদন নয়, স্মার্টফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি পড়াশোনারও এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনা আবহে এবং লকডাউনের জেরে বন্ধ স্কুল কলেজ সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। করোনা পরিস্থিতিতে পড়াশোনার মাধ্যম হয়ে উঠেছে অনলাইন ক্লাস। ফলে ছো্ট্ট স্কুল পড়ুয়াদের কাছেও এখন জরুরী হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের কাছে কি করে থাকবে এমন মোবাইল? তাহলে কি বঞ্চিত হবে তাঁরা শিক্ষার পরশ থেকে? পড়াশোনা করার ইচ্ছায় তাই মোবাইল চুরি করতে গিয়েছিল এক ছাত্র! তারপর আর কি ধরা পড়ল পুলিশের হাতে। কিন্তু ধরা পড়ার পর অভিনব শাস্তি দিলেন পুলিশ অফিসার ওই ধৃত কিশোরকে।

জানা গিয়েছে, ১৩ বছরের ওই কিশোর চেন্নাইয়ের কর্পোরেশন স্কুলের ছাত্র। বাবা বিস্কুটের দোকানে কাজ করেন এবং মা বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ সামলান। অনলাইন ক্লাসের জন্য বাবা-মায়ের আয়ে ফোন কেনার সামর্থ হয়নি ওই কিশোরের। কিছুটা অর্থের তাগিদেই তাই পাড়ার দুই দুষ্কৃতীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল ওই ছেলেটি। বিভিন্ন ভিড় এলাকায় পকেটমারি, মোবাইল চুরির মতো কাজ করতে শুরু করেছিল সে। কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল একটাই, মোবাইল কিনে অনলাইনে ক্লাস শুরু করবে। তবে এভাবে বেশিদিন আর চলল না।

- Advertisement -

সম্প্রতি মোবাইল চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে ওই কিশোর। এক পুলিশকর্মীর থেকে মোবাইল ছিনতাই করতে গিয়ে বাসের মধ্যেই পাকড়াও করা হয় তাকে। আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পরই আসল তথ্য বেরিয়ে আসে ওই পুলিশকর্মীর সামনে। যার ফলে কিশোরটিকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে গেলেও সাজা দিতে কেঁপে ওঠে ওই পুলিশকর্মীর বুক।

কিশোরটি পুলিশকর্মীকে জানান, মোবাইলের জন্য সে তাঁর অনলাইনে ক্লাস করতে পারছিল না। তাই সে এই চৌর্যকর্মে লিপ্ত হয়েছিল। বাবা-মায়ের আয়ে ফোন কেনার সামর্থ হয়নি। তাই কিছু টাকা জমিয়ে স্মার্টফোন কিনে পুনরায় অনলাইনে ক্লাস শুরু করার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর। এরপরই ওই ছেলেটিকে কোনওরকম শাস্তি দিতে পারেননি ওই পুলিশকর্মী। বরং শাস্তি স্বরূপ একটি মোবাইল ফোন কিনে উপহার দিয়েছেন। ইতিমধ্যে সেই মোবাইলে অনলাইন ক্লাসও শুরু করেছে ওই ছাত্র বলে খবর। ফলপ্রসূ এখন বন্ধ সমস্ত রকম অসামাজিক কাজকর্ম।