আজ ভাইটা থাকলে খুশি হত, আক্ষেপ চেতনের

চেন্নাই : অটোচালকের ছেলে থেকে ভারতীয় ক্রিকেটের সেনসেশন হয়েছেন মহম্মদ সিরাজ। তাঁরই পথ ধরে এগোচ্ছেন টেম্পোচালকের ছেলে চেতন সাকারিয়া।

বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ে আইপিএলের নিলামের পর কোটিপতি হয়ে গিয়েছেন সৌরাষ্ট্রের ক্রিকেটার চেতন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে টেক্কা দিয়ে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় তাঁকে কিনেছে রাজস্থান রয়্যালস।

- Advertisement -

অথচ বছর পাঁচেক আগে চেতনের বাড়িতে টিভি পর্যন্ত ছিল না। গুজরাটের ভাবনগর থেকে প্রায় ১০ কিমি দূরে অবস্থিত ভারতেজে বাড়ি চেতনের। গতমাসে তাঁর ভাই রাহুল আত্মহত্যা করে। সেসময় সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে খেলতে ব্য়স্ত ছিলেন তিনি। যদিও বাড়ি থেকে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি। এমনকি বাড়িতে ফোন করে ভাইয়ের খোঁজ নিলে উত্তর পেতেন, রাহুল বাড়িত নেই, দোকানে গিয়েছে।

বছর তেইশের এই বাঁহাতি পেসার বললেন, আমাকে বাড়ির কেউই বিষয়টি জানায়নি। আমি ভাইয়ের কথা জিজ্ঞাসা করলে বলত, বাড়িতে নেই। আবার কখনও জবাব পেতাম দোকানে গিয়েছে। প্রতিযোগিতা শেষে বাড়ি ফিরে সব জানতে পারি। ওর অভাব পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। আজ ভাই থাকলে আমার থেকেও বেশি খুশি হত। গত মরশুমে সৌরাষ্ট্রের রঞ্জি জয়ের পেছনে চেতন অন্য়তম কারণ। এবছর মুস্তাক আলিতেও ৫ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছেন।

চেতন গত আইপিএলে নেট বোলার হিসেবে বিরাটদের সংসারে সময়ও কাটিয়েছেন। এবার তারা চেতনের জন্য় এগোলেও রাজস্থান বাজিমাত করেছে। একটুর জন্য় প্রিয় দলে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। বললেন, গতবার আরসিবির নেটে মাইক হেসন, সাইমন কাটিচরা আমার প্রশংসা করেছেন। তাঁরা বলেছিলেন আমি আইপিএল খেলার জন্য় পুরোপুরি তৈরি। ওরা আমাকে নেওয়ার চেষ্টাও করেছিল। ব্যাঙ্গালোরে যেতে পারলে ভালো লাগত। তবে রাজস্থানের হয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য় মুখিয়ে আছেন তিনি।

কয়েক বছর আগে এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে ডাক পান চেতন। কিন্তু সেসময় একটা ভালো জুতোও ছিল না। বন্ধুর জুতো ধার করে সেবার কাজ চালিয়েছেন। এখন বাবাকে আর কাজ করতে দেন না চেতন। আপাতত ভালো একটা বাড়ি কেনাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য়। তাঁর কথায়, আমি অনেকদিন আগেই বাবাকে বলেছি, তোমাকে কাজ করতে হবে না, আমি সংসার চালাব। এই টাকাটা হাতে পেলে আমি রাজকোটের ভালো জায়গায় একটা বাড়ি কিনে পরিবার নিয়ে থাকতে চাই। একইসঙ্গে তাঁর আক্ষেপ, আজ যদি ভাইটা থাকতো…!