সুদের কারবারের ফাঁদে ছটপরুয়া গ্রাম, প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন

180

রায়গঞ্জঃ সুদখোরদের কবলে রায়গঞ্জের কর্ণজোড়া এলাকার ছটপরুয়া গ্রাম ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা।স্থানীয় গরিব মানুষের আর্থিক অনটনের সুযোগ নিয়ে রীতিমতো ১০ শতাংশ হারে টাকা ধার দিয়ে থাকেন মহাজনরা। আর সেই টাকা শোধ না দিতে পারলে বাড়ির স্ত্রী কন্যাকে অপহরণ করে অত্যাচার পর্যন্ত করার অভিযোগ রয়েছে মহাজনদের বিরুদ্ধে। যদিও এমন অভিযোগ পুলিশ বা প্রশাসনের কাছে করার সাহস দেখাননা স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, সুদখোরদের দল বাড়ি বয়ে এসে রীতিমতো শাসিয়ে যায় বাসিন্দাদের। জেলা প্রশাসনিক ভবন থেকে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যেই এই এলাকায় বছরের-পর-বছর ধরে এমন সুদের কারবার চলায় প্রশ্ন উঠেছে। হুমকি, আত্মহত্যা মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয়রা দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

চলতি মাসের ১ তারিখে ওই এলাকায় সুদের টাকা নিয়ে তা ফেরাতে না পেরে একজন আত্মঘাতী হয়েছেন। আর সেই আত্মহত্যার ঘটনায় দুই জনের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করার পরেই সুদের কারবারি এক যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশ হেফাজত থেকে তাকে জেল হেফাজতে পাঠালে সেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। পরপর এই দুটো মৃত্যুর পর থেকেই ঘটনার পর্দা ফাঁস হতে শুরু করেছে। নির্যাতিতা এক মহিলা জানান, তাঁর স্বামী টাকা নিয়েছিল। সেই টাকার সুদে সময়মতো মেটাতে না পারায় তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় সুদের কারবারীরা। পরে তাঁর স্বামী কোথাও থেকে টাকা জোগাড় করে এনে তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।

- Advertisement -

এলাকায় বেশিরভাগই যেহেতু দিনআনা-দিনখাওয়া মানুষের বসবাস, তারা কেউ অসুস্থ হলে বা কারোর বাড়িতে মেয়ের বিয়ে বা কোনও অনুষ্ঠানে আপদে-বিপদে পড়লে চটজলদি তারা টাকা সংগ্রহ করতে না পেরেই এইসব সুদখোরদের খপ্পরে পড়েন এবং মহাজনরা তাদের চড়া সুদে ঋণ দেন। সেই সুদের টাকা মেটাতে গিয়েই তারা আসল টাকা আর মেটাতে পারেন না। সম্প্রতি যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের বাড়ি রায়গঞ্জ থানার ১৩ নম্বর কমলাবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতে। স্থানীয় প্রধান, প্রশান্ত দাস জানান, সুদের টাকা শোধ করতে না পেরে একজনকে আত্মহত্যা করতে হয়েছে। এটা মানা যায় না তার প্রতিবাদ করেছি আমরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ১৪ নম্বর কমলাবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান যমুনা বর্মন জানান, তাঁর গ্রাম সংসদ এলাকার সোনার দোকান বা অন্যান্য ব্যবসার আড়ালে অনেক ক্ষেত্রে সুদের কারবার চলে। পুলিশের এক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানান, পুলিশ অভিযোগের তদন্ত করছে।