গোমূত্র খাওয়ার পরও করোনা হল কেন, দিলীপকে প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর

350

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: গোমূত্র খাওয়ার পরও করোনা হল কেন? বুধবার বাঁকুড়ার জনসভা থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কাছে এমনই প্রশ্ন রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, ‘গোমূত্র খেলে করোনা হবে না’, ‘গোরুর দুধ থেকে সোনা পাওয়া যায়’। সেসব নিয়ে এদিন দিলীপবাবুকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির রাজ্য সভাপতির উদ্দেশ্যে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘গোমূত্র খেলে যদি করোনা না হয়, তবে ওঁনার হল কেন? উনি তো গোমূত্র খেলেন। আর যদি গোরুর দুধ থেকে সোনা পাওয়া যায়, তবে আপনি সোনা বের করে দেখান। আমি গ্রামের মানুষকে বেশি করে গোরু দেব।‘

- Advertisement -

তৃণমূলের ‘গুন্ডা’দের আটকাতে মঙ্গলবার ঘরে অস্ত্র রাখার নিদান দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজুবাবুর সেই মন্তব্যকেও কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিজেপির কিছু নেতা হয়েছে, যাঁদের আগে কেউ চিনতেন না। এখন তাঁরা সকাল সকাল উঠে বলছেন হাতে অস্ত্র নিতে হবে।‘

বুধবার বাঁকুড়ার শুনুকপাহাড়ি ময়দানে তৃণমূল জেলা কংগ্রেসের তরফে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়। সেই জনসভায় অংশ নিয়ে সিপিএম-বিজেপি-কংগ্রেসকে একসঙ্গে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। সিপিএম-কংগ্রেস-বিজেপিকে জগাই-মাধাই-গদাই বলে মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করেছেন। তিনি এদিন বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনে সিপিএম-বিজেপি-কংগ্রেস একসঙ্গে কাজ করেছে। একসঙ্গে টাকা নিয়েছে। সিপিএমের হার্মাদরা আজ বিজেপির হার্মাদে পরিণত হয়েছে। শুধু রংটা পরিবর্তন হয়েছে, হৃদয়টা একই আছে।’ পাশাপাশি এদিন দলীয় কর্মীদের প্রতিও বার্তা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মমতা বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস করতে হলে ত্যাগী হতে হবে, লোভী হওয়া চলবে না। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

শুনুকপাহাড়ি ময়দানে আয়োজিত এদিনের জনসভায় কার্যত রণংদেহি মেজাজে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিজেপির হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। তাই ফোন করে অর্থের লোভ দেখিয়ে তৃণমূল কর্মীকে বিজেপি যেতে বলা হচ্ছে। বিধায়কদেরও অর্থের টোপ দেওয়া হচ্ছে। এটা কি রাজনৈতিক দল? সিপিএমকে দেখে আরও লজ্জা হয়। ওরা বিজেপির পায়ে পড়েছে। বিজেপি একটি অপদার্থ দল।’

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নির্বাচন এলেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভয় দেখানো হয়। যাতে তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে অন্যদলে চলে যান। তৃণমূল কর্মীদের বলা হচ্ছে, হয় জেলে থাকুন, নয়তো ঘরে থাকুন। ক্ষমতা থাকলে আমাকে গ্রেপ্তার করে দেখান। আমি জেলেও থেকে বাংলায় দলকে জেতাব। চমকানি-ধমকানি ভয় পাই না।’