সাংসদ-বিধায়কদের কালীঘাটে তলব মুখ্যমন্ত্রীর

106

কলকাতা: শিওরে বিধানসভা নির্বাচন। তার প্রাক্কালে যেভাবে একের পর এক সাংসদ থেকে শুরু করে মন্ত্রীরা বেসুরো হয়ে দলত্যাগ করে চলেছেন তারই পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার কালীঘাটে নিজের বাড়িতে জরুরি বৈঠক ডাকলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেল চারটায় ডাকা ওই বৈঠকে দলের সকল সাংসদ ও বিধায়কদের হাজির থাকতে বলা হয়েছে। উক্ত বিষয় ছাড়াও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল ইস্যুতেও আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে আলোচনা হতে পারে প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয় নিয়েও। সেক্ষেত্রে দলের সুপ্রিমোর তরফে তলব করা এই বৈঠক যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য।

অন্যদিকে, গতকাল অর্থাৎ প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন নিজের বাড়িতে জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তৃণমূলের উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল দলের কোর কমিটির সদস্য ও জেলা মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি দলের কার্যকলাপের প্রতিবাদ করে বলেন, ‘দলেরই একটা অংশ আগামী নির্বাচনে আমাকে হারিয়ে দিতে চাইছে। একমাস আগে আমি সমগ্র বিষয়টি দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম। সেই সময় দলনেত্রী আমার সামনেই দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করে ওই ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এদিন পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দলের একটা বড় অংশই আজ আর মুখ্যমন্ত্রীর কথায় গুরুত্ব দিচ্ছে না।’ সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘কিছুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী আঅমাকে বলেছিলেন আমি যাতে আমার পছন্দমতো অন্য একটি কেন্দ্র বেছে নেই। যেখান থেকে আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব।’ প্রবীরবাবু জানান, তাঁর বাড়ি উত্তরপাড়া কেন্দ্রে। কাজেই তিনি ওই কেন্দ্র ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে প্রার্থী হতে পারবেন না। স্থানীয় মানুষের অসুবিধা হবে বুঝে তিনি এখনই বিধানসভার সদস্য পদে ইস্তফা দিচ্ছেন না। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তিনি বিজেপিতে যাচ্ছেন কিনা? উত্তরে প্রবীরবাবু জানান, ওই ব্যাপারে তিনি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

- Advertisement -

প্রবীর ঘোষাল ওই সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করার পরপরই দলের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন দল বিরোধী কাজের জন্য তাঁকে বহিষ্কার করা হবে না অবিলম্বে তা জানাতে বলা হয়েছে ওই নোটিশে। অপরদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, প্রবীরবাবু দলত্যাগ করবার আগেই দল তাকে বহিষ্কার করার পথেই এগিয়ে চলেছে। প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন যাবৎ হুগলি জেলা তৃণমূল সভাপতি দিলীপ যাদবের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না তাঁর। এছাড়া সদ্য মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করা ডোমজুড়ের বিধায়ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে প্রবীরবাবুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।