নৌকা পেলেন না অন্তঃসত্ত্বা, গোয়ালদহের ত্রাণশিবিরেই সন্তানের জন্ম

204

বিশ্বজিত্ সরকার, রায়গঞ্জ : বন্যার্তদের ভিড়েই জন্ম নিল শিশুকন্যা ও শিশুপুত্র। ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ ব্লকের গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের গোয়ালদহ গ্রামের ফ্লাড সেন্টারে। বানভাসি হয়ে ওই দুই সদ্যোজাতের পরিবারের লোকদের ঠাঁই হয়েছে সেখানেই। গত ১৫ দিন ধরে ওই শিবিরে আস্তানা সবার। সেখানেই দুজন মহিলা কন্যা ও পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। রবিবার দুপুরে সেই শিবিরে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। কারণ, এই মুহূর্তে ওই ফ্লাড সেন্টারও জলমগ্ন। তবে  কন্যাসন্তানের বাবা আকালু রায় বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে ত্রাণশিবিরেই যে সন্তানের জন্ম হবে, তা কখনও ভাবতে পারিনি। এখন মেয়ে জন্ম শংসাপত্র কীভাবে পাব বুঝে উঠতে পারছি না। গ্রামের আশাকর্মীদের সব ঘটনা জানিয়েছি। এখনও তাঁদের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর পাইনি। নবজাতকের মা জ্যোৎস্না বর্মন বলেন, একদিকে প্রসবযন্ত্রণা, অন্যদিকে রাতে ঘাটে নৌকা না পাওয়ায় ফ্লাড সেন্টারেই কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে।

এদিকে নবজাতক পুত্রসন্তানের বাবা ভানু রায় বলেন, স্ত্রীর প্রসবযন্ত্রণা শুরু হলে প্রথমে আমরা তাকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার জন্য নৌকার খোঁজ করি। নৌকা পাওয়া যায়নি। অগত্যা স্থানীয় দাইমাকে দিয়ে প্রসব করানো হয়। এখানে বিকেল চারটার পর ঘাটে নৌকা পাওয়া যায় না। নৌকা সারা দিনে মাত্র দুই থেকে তিনবার গ্রামে আসে। সন্ধে থেকে ভোর পর্যন্ত মাঝিদের ফোন করলেও লাভ হয় না। আবার অনেক নৌকার মাঝি ঘাট পারাপারের জন্য ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা চেয়ে বসে। সব মিলিয়ে চরম সমস্যায় রয়েছি আমরা। সদ্যোজাতের মা ধ্রুপদী রায় বলেন, গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে যাবতীয় ওষুধ ও ইনজেকশন নিয়েছি। আশাকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীরাই আমার দেখভাল করেছেন। তবে হাসপাতালে প্রসব না হওয়ায় ছেলের জন্ম শংসাপত্র নিয়ে চিন্তায় রয়েছি।

- Advertisement -

বিপন্ন গ্রামবাসীদের বক্তব্য, প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ জলবন্দি অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরকারি কোনও ত্রাণ পাওয়া যায়নি। এদিকে সরকারি ত্রাণশিবিরে সদ্যোজাত ফুটফুটে দুই ছেলেমেয়েকে দেখতে বাকি বন্যার্তদের মধ্যেও হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। খবর পেয়ে আসেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ধনপদ রায়। বর্তমানে ওই দুই প্রসূতি সুস্থ রয়েছেন। পঞ্চায়েত প্রধান সীমা মণ্ডল বলেন, এদিন ত্রাণশিবিরে দুটি সদ্যোজাত সন্তানের জন্ম হয়েছে। দুটি শিশুই সুস্থ রয়েছে। আশাকর্মীদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের দেখভাল করছেন।