বাইক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু, ২ লক্ষ টাকায় রফা করলেন বাবা

প্রতীকী ছবি।

রায়গঞ্জ : বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল এক দুধের শিশুর। আর তার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই সেই ঘটনাও রফা হয়ে গেল দুলক্ষ টাকার বিনিময়ে। মৃত ওই শিশুর নাম জিসান মহম্মদ (১)। আর টাকার বিনিময়ে রফার অভিযোগ উঠেছে জিসানের বাবা মতিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এবিষয়ে তাঁর বক্তব্য, দুর্ঘটনায় ছেলে মারা গিয়েছে। কিন্তু মামলা করে কী লাভ হবে? তাই অভিযুক্ত বাইকচালকের কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা নিয়ে মীমাংসা করে ফেললাম।

রবিবার বিকালে দুর্ঘটনায় জখম ওই শিশুকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে মালদা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ইটাহার পার হওয়ার পর পথেই ওই শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটির সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্সে ছিলেন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এক স্বাস্থ্যকর্মী ও অ্যাম্বুল্যান্স চালক। ই অ্যাম্বুল্যান্স চালক ও স্বাস্থ্যকর্মীর দাবি, বারবার আমরা মৃত শিশুর ময়নাতদন্ত করার জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে নিয়ে যেতে চাইলেও শিশুর পরিবার এবং স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর হস্তক্ষেপে নিয়ে আসতে পারেনি। স্বাস্থ্যকর্মী জ্যোৎস্না জমাদারের বক্তব্য, চোখের সামনে দেখলাম, টাকার বিনিময়ে মৃত শিশুটি বিক্রি হয়ে গেল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই অ্যাম্বুল্যান্স চালক বলেন, দুলক্ষ টাকার বিনিময়ে ওই শিশুটিকে বিক্রি করা হয়। আমাদের চোখের সামনে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যে মোটরবাইকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিল সেই বাইকচালক এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক সঞ্জয় শেঠ বলেন, ওই শিশুটিকে গুরুতর জখম অবস্থায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে তাকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়। কিন্তু আমরা পরে জানতে পারি যে, পরিবারের লোকেরা আমাদের কথার তোয়াক্কা না করে তাকে মালদা মেডিকেল কলেজের দিকে নিয়ে গিয়েছে।

- Advertisement -

রবিবার বিকালে দুটি বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে জিসান। দুর্ঘটনাটি ঘটে ইটাহার থানার রাজবাড়ি গেট এলাকায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে। হেমতাবাদের গুটিন গ্রামে শ্যালকের বিয়েতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন মতিবুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী ও এক বছরের সন্তান। রাস্তার নির্মাণ সামগ্রীর উপরে পড়ে যায় শিশুটি। বুকের ভেতরে পাথর ঢুকে যায়। স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়। মতিবুল ও তাঁর স্ত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দিলেও, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। যদিও ওই শিশুটির কেন ময়নাতদন্ত করা হল না ও টাকা নিয়ে মিটমাটের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশের কর্তারা।