ভাতের গামলায় বালি, পাথর তুলছে বন্ধ বাগানের শিশুরা

569

বীরপাড়া : ভাত রাখার গামলাটা এখন দুটো কাজে লাগে বন্ধ বীরপাড়া চা বাগানের কর্মহারা শ্রমিক মংরি ওরাওঁয়ের পরিবারের। পরিবারের কর্তা যাত্রু ওরাওঁ মারা গিয়েছেন। এদিকে, বাগানও এক বছর ধরে বন্ধ। কাজহারা মংরি এখন গ্যারগান্ডা নদী থেকে বালিবজরি, পাথর তুলে সংসার চালানোর মরিয়া চেষ্টা চালান। কিন্তু একজন মহিলার পক্ষে সারাদিন ধরে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে বালিবজরি তুলে যে কটা টাকা ঘরে আসে, তাতে পাঁচজনের সংসার মোটেও চলে না। তাই পরিবারের অন্ন জোটাতে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া সুনীতা ওরাওঁকেও নদী থেকে বালিবজরি তুলতে হয়। এখন স্কুল বন্ধ। তাই রোদই হোক বা বৃষ্টি, নদীর বুকেই সুনীতার দিন কেটে যায়। নদীর বুক থেকে ছোট ছোট পাথর কুড়িয়ে গামলায় ভরে সে একপাশে জমা করে রাখে। রাতে ওই গামলাটাতেই গরম গরম ভাত রেখে চারপাশে গোল হয়ে বসে মা সহ চার ভাইবোন।

২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে অচল হওয়ার পর ডানকান টি কোম্পানি পরিচালিত বীরপাড়া চা বাগানটি ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে খোলে। এরপর বাগান চললেও আর্থিক সমস্যায় ধুঁকছিল। বারবার শ্রমিক বিক্ষোভে বাগান উত্তপ্ত হচ্ছিল। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে বাগানটি ফের বন্ধ হয়ে যায়। চা বাগানের শ্রমিক ও  কর্মীরা কমিটি গড়ে কাঁচা পাতা তুলে বিক্রি করছেন। এক কেজি কাঁচা পাতা তুলে ১০ টাকা মেলে। বাগানের শ্রমিক শান্তামুনি ওরাওঁ বলেন, এভাবে তো সংসার চলে না। তাই আমাদের বাধ্য হয়ে নদী থেকে বালিবজরি তুলতে হয়। পরিবারের বড়দের সাহায্য করতে ছোটরাও এগিয়ে আসছে। যেমন মংরি ওরাওঁয়ের ছোট ছোট তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সবাই এখন নদী থেকে বালিবজরি, পাথর তুলে টাকা রোজগারের চেষ্টা করে। বাগানের শ্রমিক অশোক কুজুর জানান, এক পৌয়া বালিবজরি, পাথর জমা করলে ১৫০ টাকা মেলে। এমন ১০ পৌয়ায় এক ট্রাক হয়।

- Advertisement -

বাগানের চা পাতা তোলার কমিটিগুলির মধ্যে একটির কর্মকর্তা বীরু টোপ্পো বলেন, অনেকের বাড়িতেই অসুস্থ সদস্য রয়েছেন। ঘরে ঘরে অভাব-অনটন তীব্র আকার নিয়েছে। শ্রমিকদের পরিবারের শিশুরাও এখন পেটের দায়ে নদী থেকে বালিবজরি তুলতে বাধ্য হচ্ছে। বাগান না খুললে সমস্যা মিটবে না। সামনেই পুজো। কিন্তু ওসব নিয়ে ভাবার আমাদের কোনও উপায় নেই। মাদারিহাটের বিধায়ক মনোজ টিগ্গা বলেন, রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার অভাবেই বাগানটি খুলছে না। এদিকে, শাসকদল বাগান নিয়ে একের পর এক নাটক করে যাচ্ছে। চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের সহ সভাপতি মান্নালাল জৈন বলেন, বীরপাড়া চা বাগানের শ্রমিক-কর্মচারীদের তরফে চা বাগানের শ্রমিক সংগঠনগুলি বাগানটি খোলার বিষয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। আমরা সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছি।