পাকুড়িতলায় পুজোয় মাতে শিশুরা

মণীন্দ্রনারায়ণ সিংহ, আলিপুরদুয়ার : সাদামাঠা মণ্ডপ নজর কাড়বে না। আলোর রোশনাইয়ে চোখ ধাঁধিয়ে যাবে না। প্রতিমার সাজসজ্জাও আহামরি নয় মোটেই। তবু আলিপুরদুয়ারের ভেলুরডাবরির পাকুড়িতলা গ্রামে ভক্তদের নিয়মনিষ্ঠা আর ভক্তিতে মৃন্ময়ী হয়ে ওঠেন চিন্ময়ী। এখানে দেবী দুর্গার আরাধনায় পুরো গ্রাম যেন একটি পরিবার হয়ে ওঠে। গ্রামের মহিলাদের পরিচালিত ওই পুজোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিশু, কচিকাঁচাদের আলাদা করে একটি পুজোও। করোনার রক্তচক্ষুর মধ্যেও আট থেকে আশি গ্রামের সবাই এখন পুজোর আনন্দে মাতোয়ারা। সবারই দশভুজার কাছে একটাই প্রার্থনা, করোনাসুর বধ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দাও।

আলিপুরদুয়ার শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে পাকুড়িতলা গ্রাম। সবুজে ঘেরা ওই গ্রামে শতাধিক পরিবারের বসবাস। অধিকাংশ বাসিন্দার জীবিকা চাষবাস। কেউ কেউ শহরে গিয়ে জনমজুরি, নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালান। এই গ্রামের বিশেষত্ব হল, চাষবাস করে সচ্ছল পরিবারের লোকেরাও গ্রামের গরিব মানুষগুলির সঙ্গে সারা বছর মিলেমিশে থাকেন। গ্রামে ঢুকলে অধিকাংশ বাসিন্দার অভাব-অনটনের বিষয়টি মালুম হলেও কখনোই গ্রামটিকে নিষ্প্রাণ মনে হবে না। বাসিন্দাদের আন্তরিকতা মন ছুঁয়ে যাবে। কয়েক বছর আগে গ্রামের কচিকাঁচারা দুর্গাপুজো দেখতে শহরে যাওয়ার জন্য বায়না ধরত। কিন্তু শহরে গিয়ে পুজো দেখে বাড়ি ফিরতে অনেক রাত হয়ে যেত। মাঝপথেই শিশুরা হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে মায়ের কোলে ঘুমিয়ে পড়ত। শহরে গিয়ে ঠাকুর দেখার যে দুর্ভোগ, সেটা এড়াতে ছবছর আগে গ্রামের মহিলারা উদ্যোগী হয়ে পুজো শুরু করেন। গত ছবছর ধরে গ্রামের সকলেই পুজোর কটা দিন এক পরিবার হয়ে হইহুল্লোড় করে কাটিয়ে দেন।

- Advertisement -

পুজোর উদ্যোক্তা সীমা দে, রুমা দাস, সুমিতা দাস, অনিমা দাসরা জানান, নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে পুজোর আয়োজন করা হয়। সেভাবেই নিষ্ঠার সঙ্গে মায়ের ভোগ রান্না হয়। গ্রামের সকলেই একসঙ্গে বসে মায়ের প্রসাদ নেন। উদ্যোক্তারা জানান, পুজোর বাজেট প্রায় ৫০ হাজার টাকা। গ্রামের বাসিন্দারা সীমিত ক্ষমতার মধ্যেই উৎসাহী হয়ে সবাই চাঁদা দিয়ে থাকেন। মহিলাদের পরিচালিত পুজোর আয়োজনের পাশাপাশি ৮ থেকে ১২ বছরের শিশু-কিশোররাও নিজেদের হাতেই মণ্ডপ তৈরি করে ছোট্ট পুজোর আয়োজন করে। অভিভাবকরা শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করেন। করোনা পরিস্থিতির জন্য গ্রামের অনেকেরই রোজগার কমে গিয়েছে। তাই এবারে মহিলাদের পরিচালিত পুজো হবে কি না, সে নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। যদিও বাজেটে কাটছাঁট করে শেষ পর্যন্ত পুজো হচ্ছে। সেইসঙ্গে ছোট্ট প্যান্ডেল করে পুজোয় মেতে উঠেছে কচিকাঁচারাও।