বিস্ফোরণে উড়ে গেল শিশুশিক্ষা কেন্দ্র

569

বর্ধমান: গোপনে শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে বোমা মজুত করে রেখেছিল দুষ্কৃতিরা। সেই বোমার বিস্ফোরণে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের দেওয়াল ও ছাদের একাংশ। শনিবার বিকেলে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসি থানার লোয়া রামগোপালপুর পঞ্চায়েতের আটপাড়া গ্রামে। বিস্ফোরণের জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গলসি থানার পুলিশ। শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের শৌচাগারে কারা বোমা মজুত করেছিল তার তদন্ত পুলিশ শুরু করেছে। শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের অন্য কোথাও আর বোমা মজুত রয়েছে কিনা তা পুলিশ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আটপাড়া গ্রামের দিঘীরপাড় এলাকায় রয়েছে ধর্মপুর আটপাড়া হাজরাপাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্র। করোনা অতিমারির কারণে সরকারি নির্দেশ মেনে বেশ কয়েকমাস ধরে বন্ধ রয়েছে শিশুশিক্ষা কেন্দ্র। স্থানীয়রা বলেন, শিশুশিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতিরা সেখানে বোমা মজুত করে রেখেছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বালি ঘাটে দখলদারি কায়েম নিয়ে মাঝে মধ্যেই দুষ্কৃতীদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয় গলসির লোয়া রামগোপালপুর এলাকা। ক্ষমতা জাহির করার জন্য ওই সব দুষ্কৃতীদলের কেউ বন্ধ থাকা শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে বোমা মজুত করে রেখেছিল বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর কথায় জানা গিয়েছে, এদিন বিকেল চারটে নাগাদ হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আটপাড়া গ্রাম। সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া আর ধুলোয় ভরে যায় শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের চারপাশ। ভয়ে- আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেদেন শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের আশপাশের বাসিন্দারা। সেই খবর পেয়েই পুলিশ সেখানে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ গ্রামে পৌঁছানোর পর ভয়ভীতি কাটে বাসিন্দাদের।

- Advertisement -

গলসির আটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ভৈরব হাজরা, শেখ সফিকুল বলেন, করোনা অতিমারীর কারণে দীর্ঘদিন শিশুশিক্ষা কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। যদিও এরই মধ্যে কিছুদিন আগে শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের পড়ুয়াদের চাল, ডাল দেওয়া হয়। তারপর থেকে শিশুশিক্ষা কেন্দ্রটি তালা বন্ধই রয়েছে। তার চাবি থাকে কেন্দ্রের শিক্ষিকা আকতারা বেগমের কাছে। তা সত্ত্বেও শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের শৌচাগারের ভিতরে কীভাবে বোমা এল সেই প্রশ্ন নিয়েই এখন গলসিতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।

শিক্ষিকা আকতারা বেগম যদিও জানিয়েছেন, “শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের চারটি শৌচাগারের দরজাতেই তালা দেওয়া রয়েছে। তার চাবি তাঁর কাছে রয়েছে। তা সত্ত্বেও শৌচাগারের ভিতরে কীভাবে বোমা এল সেটাই আশ্চর্যের বলে আকতারা বেগম মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তাঁর ধারণা দুষ্কৃতিরা রাতের অন্ধকারে খোলা বক্স জানালা দিয়ে শৌচাগারের ভিতরে ঢুকে সেখানে বোমা মজুত করেছিল।”

গলসি ১ ব্লকের যুগ্ম বিডিও মৃন্ময় দাস বলেন, “ঘটনা জানার পরেই পুলিশকে জানিয়েছি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি ওই শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে চারটি শৌচাগার ছিল। তারমধ্যে দুটি নতুন ও দুটি পুরাতন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোমা রাখাটা দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে যারাই যুক্ত থাক তারা কেউ যাতে পার না পায় সেই বিষয়টি পুলিশ দেখছে।” গলসি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত সেই বিষয়ে খোঁজখবর চালানো হচ্ছে।