ভাঙছে ঝোরার পাড়, অস্তিত্ব সংকটে শিশু শিক্ষা কেন্দ্র

87

রাঙ্গালিবাজনা: পাড় ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছে নাককাটি ঝোরা। আবার মাঠের জল গড়িয়ে ঝোরায় পড়ার সময় কৃষিজমি খুঁড়ে গতিপথ তৈরি করে নিচ্ছে। ফলে যে কোনও সময় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে পারে মাদারিহাট থানার রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাঁটাখোলান শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের ভবনটি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০১৭ সাল থেকে শুরু হয়েছে ভাঙন। কিন্তু ভাঙন ঠেকিয়ে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের ভবনটি রক্ষা করতে এলাকার পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা কোনও ভূমিকাই নেয়নি। বৃহস্পতিবার মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির স্থানীয় সদস্য সাজিদ আলম জানান, ভোটের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া আটকে গিয়েছিল। তা ফের শুরু হয়েছে। শীঘ্রই ভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হবে।

গত বছর জুলাই মাসে সাজিদ আলম জানিয়েছিলেন, ইমার্জেন্সি স্কীমে ভাঙন ঠেকানোর কাজ হবে। পরে অবশ্য কাজ হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই এলাকার পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকবছর আগে যে জমিগুলিতে চাষবাস হত সেই জমিতে এখন বইছে স্রোতের ধারা। ঝোরার স্রোতে ভেঙে পড়েছে একাধিক কালভার্টও। কিছু পরিবার ঘোর বিপাকে পড়ে গিয়েছে। মহসিন রেজার বাগান, কাদের আলি, যোগল হরিজন, হাসমত আলি, মাতলু ওরাওঁ, বক্কর আলি, হাসিমুল হক, বসিরুদ্দিন সহ অনেকের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক বছরে। এদিকে বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমি থেকে বৃষ্টির জল গড়িয়ে ঝোরায় পড়ার সময় রামদাস ওরাওঁয়ের জমিটি খুঁড়ে গতিপথ তৈরি করে নিয়েছে। ওই জমির পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটি। ফলে যে কোনও মুহূর্তেই সেই ভবন ভেঙে পড়তে পারে।

- Advertisement -

স্থানীয়রা জানান, শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের পাশে ঝোরার বাঁকের মুখে বোল্ডার ও তারজালি দিয়ে একটি ছোটো বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি এতটাই নীচে অবস্থিত যে পাড় ভাঙন রোধে সেটি কোনও কাজেই লাগেনি। চলতি বছর বৃষ্টি শুরু হতেই পাড় ভাঙন শুরু হয়েছে। এবার হারিয়ে যেতে পারে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের ভবনটিও।