ভারতীয় উপগ্রহে চিনের সাইবার হামলা, দাবি মার্কিন রিপোর্টে

473

ওয়াশিংটন : কেবল ভূমি ও সমুদ্র নয়, চিনের আগ্রাসনের পরিকল্পনা গত কয়েক বছরে মহাকাশও ছুঁয়েছে। ২০১২ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ভারতীয় উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করতে চিন একাধিকবার সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে জানাল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। তবে সংস্থার দাবি, এখনও পর্যন্ত ভারতের উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা অক্ষতই রয়েছে। চিনা হামলা বিন্দুমাত্র আঁচড়ও কাটতে পারেনি তাতে। ভারতীয় উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় চিনের সাইবার হামলা সংক্রান্ত এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গিয়েছে মার্কিন সংস্থা চায়না এরোস্পেস স্টাডিজ ইনস্টিটিউট (কাসি)-এর তৈরি একটি ১৪২ পাতার রিপোর্ট থেকে। জানা গিয়েছে, কেবল ভারতীয় উপগ্রহ নয়, আমেরিকার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি (জেপিএল)-ও চিনের সাইবার হামলার মুখে পড়েছিল। মার্কিন সংস্থার রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট, ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত একাধিকবার মহাকাশ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল চিন। সেই সূত্রেই ভারতের একাধিক কৃত্রিম উপগ্রহে সাইবার হামলার চেষ্টা হয়েছে। চেষ্টা হয়েছে ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে মহাকাশ গবেষণার কেন্দ্রের গ্রাউন্ড স্টেশনের গোপন তথ্য নষ্ট করে দেওয়ার। চিনা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সবচেয়ে বড় হামলাটি হয়েছিল ২০১৭ সালে। তবে কোনওবারেই চিন সফল হয়নি বলে ইসরোর দাবি। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র যে চিনের নিশানায় রয়েছে, সে তথ্যও মিলেছে কাসি-র প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১২ সালে নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির জরুরি তথ্য হ্যাক করার চেষ্টা করেছিল চিন। এর জেরে ল্যাবের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছিল চিনের হাতে। বহু সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এবং তাদের থেকে পাওয়া তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে সাইবার হামলা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে ওই সংস্থা। সেইসব সূত্রকে উদ্ধৃত করেই তৈরি হয়েছে ওই রিপোর্ট।

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ ভারতের হাতে এসেছে অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইল টেকনোলজি। মার্কিন রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় উপগ্রহ ব্যবস্থার ওপর চিনের সাইবার হামলাটি হয়েছিল এর দুবছর আগে। তবে বর্তমানে অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইল টেকনোলজি ব্যবহার করে ভারত যে কোনও সময় শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট ধ্বংস করতে পারে। তবে চিনের কাছেও মহাকাশ যুদ্ধের বেশ কিছু অত্যাধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে মার্কিন সংস্থার রিপোর্টে। এই এ-স্যাট প্রযুক্তি এমন যে, মহাকাশে শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট বা ডিজিটাল অস্ত্র হামলা চালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধ্বংস করে দিতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। ভারত ছাড়া এই ক্ষমতা আছে বিশ্বের আর মাত্র তিনটি দেশ আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনের। তাদের কাছে কোঅর্বিটাল স্যাটেলাইট, এনার্জি-ওয়েন, জ্যামার ও সাইবার কেপেবল অস্ত্র রয়েছে। ইসরো জানিয়েছে, গত বছর এ-স্যাট ক্ষেপণাস্ত্র উত্ক্ষেপণের পরে চিন চেষ্টা করেছিল ভারতের এই অস্ত্র ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে। পৃথিবীর কক্ষে থাকা ভারতের বিভিন্ন উপগ্রহকে নিশানা করেও গোপন হামলার চেষ্টা চলে।

- Advertisement -

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, আধিপত্য কায়েম করতে মাটিতে সীমাবদ্ধ না থেকে পৃথিবীর বাইরেও সমানে সমানে টক্কর চলছে। একদিকে লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে চিনের লাল সেনা, অন্যদিকে, মহাকাশে সাইবার যুদ্ধ ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের দ্বন্দ্ব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করে বিগড়ে দেওয়া যায় কোনও বিশাল নেটওয়ার্ক। মহাকাশের কোনও উপগ্রহের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়া খুব একটা অসম্ভব কাজ নয় এই প্রযুক্তিতে। পৃথিবীর এক প্রান্তে বসে লেখা কোড বা ম্যালওয়্যার তছনছ করে দিতে পারে অন্যপ্রান্তের আস্ত নেটওয়ার্ককে। এই সাইবার দ্বন্দ্ব যুদ্ধের চেহারা নিতে পারে যেকোনও সময়। এসব দেখেশুনেই ভারতের কৃত্রিম উপগ্রহগুলিকে রক্ষা করার জন্য এ-স্যাট অ্যান্টি-স্যাটেলাইট ক্ষেপণাস্ত্র বানানো হয়েছে বলে ইসরো ও ডিআরডিও জানিয়েছে। মহাকাশ যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে ডাইরেক্ট এনার্জি ওয়েন থেকে শুরু করে উচ্চ গতির লেজ়ার অস্ত্র, হাইপাওয়ার মাইক্রোওয়েভ এনার্জি অস্ত্র ইত্যাদি মজুত করা হয়েছে।