নভেম্বরেই বাজারে আসছে করোনার ভ্যাকসিন, দাবি চিনের

607

নয়াদিল্লি: করোনাকালে ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে নিজেদের নাম লিখিয়েছে বিভিন্ন দেশ। সে ভারত হোক আর রাশিয়া। এবার সেই দৌড়ে একধাপ এগিয়ে নিজেদের নাম লেখাল চিন। তাঁরা দাবি করে বসল তাঁদের দেশের করোনার প্রতিষেধক চলতি বছরের নভেম্বর মাসেই বাজারে আসতে চলেছে।

মঙ্গলবার, চিন সরকারের এক আধিকারিকের দাবি, তাঁদের তৈরি করোনা ভাইরাসের টিকা এই বছরের নভেম্বর মাসের মধ্যেই সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং ব্যবহারের জন্য বাজারে আনা হতে পারে।

- Advertisement -

পাশাপাশি, চিনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, চিনের চারটি করোনার ভ্যাকসিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। এর মধ্যে তিনটি ভ্যাকসিন এমন আছে, যা কিনা ইতিমধ্যেই চিনের স্বাস্থ্যকর্মীদের জরুরি ভিত্তিতে দেওয়া শুরু হয়েছে। সেই এপ্রিল মাসেই জরুরি ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে চিন।

গুইজেন য়ুঁ নামের ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, চিনের ভ্যাকসিনগুলির চূড়ান্ত পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল খুব ভালভাবে এগোচ্ছে এবং সব ঠিক থাকলে নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য এই ভ্যাকসিন বাজারে চলে আসবে। গুইজেন আরও জানিয়েছেন, তিনি নিজেও এপ্রিল মাসে চিনের তৈরি একটি টিকার ডোজ নিয়েছেন এবং এখনও পর্যন্ত তাঁর শরীরে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ফলে ইতিমধ্যে ভ্যাকসিন নিয়ে আশার আলো উদিত হয়েছে ড্রাগনের দেশে।

উল্লেখ্য, চিনা ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সংস্থা সিনোফার্ম বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের মতো দেশে করোনার টিকার ট্রায়াল চালিয়েছে। শোনা যাচ্ছে এবার আফগানিস্তানে চিকিৎসাকর্মীদেরও এই টিকা দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, এর আগে সিনোফার্মের এক কর্তা দাবি করেছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই তাঁদের তৈরি করোনার টিকা বাজারে চলে আসবে। এমনকী এই টিকার দাম হাজার ইয়ান অর্থাৎ প্রায় দশহাজার টাকা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

যদিও, গুইজেন য়ুঁ নামের এই সরকারি আধিকারিক আদৌ সিনোফার্মের টিকার কথা বলছেন, নাকি অন্য কোনও টিকার কথা বলছেন, তা নিয়ে ধন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তবে, চিন যদি নভেম্বরে সাধারণ মানুষের জন্য টিকা আনে, তাহলে তা চমকপ্রদ ব্যাপার হবে। কারণ, রাশিয়ার টিকার মতো চিনের টিকা সম্পর্কেও তেমন তথ্য কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হাতে আপাতত নেই।