ঘর সামলাতে ভারতের উপর চাপ বাড়াচ্ছে চিন

602

দীপাঞ্জন চক্রবর্তী: কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বে চিন অনেক চাপে আছে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই মুহূর্তে চিন ভালো জায়গায় নেই। ঘরে-বাইরে এই চাপ থেকে বাঁচতে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য চিন এই যুদ্ধ-যুদ্ধ আবহাওয়া তৈরি করেছে বলে আমার মনে হয়। কারণ, দীর্ঘ কয়েক দশক সেখানে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আমি নিজেও এক সময় লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে কর্মরত ছিলাম। আমাদের সঙ্গে চিনের সেনাবাহিনীর অনেক কথাবার্তা হয়েছে। কিন্তু, এভাবে হামলার ঘটনা ঘটেনি। এবারও যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অপমানজনক বলে মনে করি। কারণ, দুই দেশের মধ্যে গুলির লড়াই হচ্ছে, সেখানে আমাদের কেউ শহিদ হলেন বা বিপক্ষ দেশের কেউ মারা গেলেন, তা হতে পারে। কিন্তু, এভাবে আমাদের সেনাবাহিনীর উপর লাঠি, রড দিয়ে যে হামলা হয়েছে, তা সমস্ত নীতি ও শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে। আমি মনে করি, ভারত সরকার এর যোগ্য জবাব দেবে। মনে হয়, সব রাজনৈতিক দলেরই উচিত, সরকারকে বিব্রত না করে এই অপমানজনক হামলার বিরুদ্ধে কীভাবে পালটা জবাব দেওয়া যায়, তার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করা।

এই হামলার ঘটনায় অনেকগুলি বিষয় সামনে আসছে। তার মধ্যে সেনাবাহিনীর কিছু কৌশলগত দিক আছে। কিন্তু, সেই কৌশল সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে বা প্রকাশ্যে বলা যায় না। তবে এই হামলার ঘটনায় কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। এই মুহূর্তে ভারত-চিন সীমান্তে গালওয়ান ভ্যালিতে যেখানে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেখানে পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে আমরা অনেক উন্নতি করেছি, যা চিনের মাথাব্যথার কারণ। গালওয়ান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭ হাজার ফুট উঁচুতে। ওই জায়গা বিতর্কিত। কিছু নির্দিষ্ট সামরিক বাধ্যবাধকতার কারণে হয়তো এয়ার লিফট করে জখম জওয়ানদের চিকিত্সা করানো সম্ভব হয়নি।

- Advertisement -

বেশ কিছুদিন ধরেই চিন-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা রয়েছে। এমনিতেই সেভেন সিস্টারস বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে প্রতিবেশীদের নিয়ে একটা সমস্যা আছে। সেখানে সব সময়ই কোনও না কোনওভাবে সরকারকে বিব্রত করে রাখা হয়। সম্প্রতি নেপাল সীমান্তেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার পিছনেও চিন আছে। নেপালে শিল্প স্থাপনের জন্য চিন প্রস্তুতি নিয়েছে। শ্রীলঙ্কায় চিন দুটি সমুদ্র বন্দর তৈরি করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আগের মতো ভালো নেই। ডোকালামের ঘটনার পর ভুটানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটেছে। এই মুহূর্তে ভারত যা আমদানি করে, তার ৩৫ শতাংশ চিন থেকে। কিন্তু, চিন যা জিনিস রপ্তানি করে তার মাত্র ৩ শতাংশ ভারতে। ভারতের বাজার নিয়ে চিন ততটা চিন্তিত নয়। এই মুহূর্তে গোটা বিশ্ব চিনের বিরুদ্ধে। তাই ভারতকে বিব্রত করার একটা কৌশল রয়েছে। বেশ কিছু বহুজাতিক কোম্পানি চিন থেকে তাদের শিল্প সরিয়ে ভিয়েতনামে নিয়ে গিয়েছে। কিছু ভারতে আসবে। তাই অর্থনৈতিক দিক থেকে চিন ধাক্কা খাচ্ছে। ভারতকে বিব্রত করে কিছুটা পালটা চাপ তৈরি করা চিনের উদ্দেশ্য বলে মনে হচ্ছে।

                                                             (অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি কমান্ডান্ট, ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড)