ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি, নেপালকে বিপাকে ফেলতে পারে চিন

591

কাঠমান্ডু ও নয়াদিল্লি :  ভারতের সঙ্গে সংঘাত মিটিয়ে সম্পর্কের পুরোনো উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার বার্তা দিচ্ছে নেপাল। ভারতের ৩টি অঞ্চলকে (কালাপনি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা) অন্তর্ভুক্ত করে নেপালের সংসদে পাশ হওয়া বিতর্কিত মানচিত্র নিয়ে আপাতত নীরব ওলি সরকার। নতুন মানচিত্র সম্বলিত পাঠ্যপুস্তকের ব্যবহারও স্থগিত রাখা হয়েছে। কয়েকমাস আগে পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ধারাবাহিকভাবে ভারতের বিরুদ্ধে মন্তব্য করছিলেন। তিনি এখন ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে তৈরি ভারতও। দুই প্রতিবেশী ফের কাছাকাছি আসার সম্ভাবনা দেখা দিতেই সক্রিয় হয়েছে চিন। চিনা নেতাদের সাম্প্রতিক নেপাল সফর ও সেদেশে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূতের সক্রিয়তা সেদিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের জট জিইয়ে রাখতে নেপাল সরকারের ওপর চিন চাপ তৈরি করতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা। তাঁদের মতে, নেপালে প্রভাব ধরে রাখতে অর্থনীতি ও সামরিক শক্তিকে কাজে লাগাতে পারে বেজিং। নেপালের পরিকাঠামোয় বিপুল বিনিযোগ করেছে চিন। তিব্বতের সঙ্গে নেপালকে যুক্ত করতে সড়ক ও রেলপথ তৈরি করা হয়েছে। সেদেশের বাজারে চিনাপণ্যের বিক্রি বেড়েছে। এছাড়া নেপালে চিনা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার কাজও চলছে জোরকদমে। নেপালের একটি গ্রামের একাংশ ইতিমধ্যে চিনের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে নীরব ওলি প্রশাসন। নেপালকে নিজের প্রভাব বলয়ে ধরে রাখতে চিনের তরফে সামরিক চাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সবমিলিয়ে ওলির ওপর চিনের চাপ সৃষ্টির ক্ষমতা যথেষ্টই বলে মনে করা হচ্ছে।

- Advertisement -

রবিবার পাকিস্তান সফর শুরু করার আগে চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল উই ফেংঘের বিমান আচমকা কাঠমান্ডুতে অবতরণ করে। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী ওলি ছাড়াও নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারী ও সেনাপ্রধান পূর্ণচন্দ্র থাপার সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, গত কয়েকমাসে চিনের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক নেপালে এসেছেন। কাঠমান্ডুতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত হৌ ইয়ানগিও নেপাল সরকারের মন্ত্রী ও আধিকারিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। নেপালে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কয়েজন নেতার সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

২০১৮-তে দুই বামপন্থী দল মিশে গিয়ে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি তৈরি হয়েছিল। দলের যৌথ নেতৃত্বে রয়েছেন কেপি শর্মা ওলি এবং পুষ্পকুমার দহল ওরফে প্রচণ্ড। এই মিলনে চিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়। সংসদ নির্বাচনে নতুন দলটি নেপালি কংগ্রসকে পরাজিত করে ক্ষমতা দখল করে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে ওলি ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেন। নেপালের জনমানসে পরিকল্পতিভাবে ভারত-বিরোধী প্রচার চালানো হয়। ভারত সীমান্তে নেপালি পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিকবার গুলি চালনার অভিযোগ উঠেছে। নেপালে ভারত-বিরোধিতার জিগির মাথাচাড়া দেওয়ার পিছনে চিনের ভূমিকা নিয়ে এদেশের কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত-নেপাল সম্পর্কের টানাপোড়েন জিইয়ে রাখতে ওলি সরকারের ওপর চিন চাপ বাড়াতে পারে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।