ভারতের সঙ্গে সংঘাতে চিনের বহুমুখী পরিকল্পনা

চিনের পশ্চিম, দক্ষিণ পূর্ব সীমান্তে বেশ কিছু অঞ্চলের আদি বাসিন্দারা ঐতিহ্যগতভাবে চিনের সঙ্গে থাকতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন না। সামরিক শাসনে কয়েক প্রজন্মের মগজধোলাই ওইসব জায়গায় চিনের প্রভুত্বকে সর্বজনীন করেছে। তবে বলপূর্বক দখল করা এলাকা নিয়ে বেজিংয়ের ভীতি এখনও কাটেনি। লিখেছেন অদ্রী গড়াই

শীত আসছে। লাদাখের উত্তাপ কিন্তু কমছে না। খুব শীঘ্র কমবে, তেমন কোনও লক্ষণ আপাতত চোখে পড়ছে না। সেনাস্তর থেকে শুরু করে চিন ও ভারতের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের পর বৈঠক নিষ্ফলাই থেকে গিয়েছে। সমাধানসূত্র যত অধরা হচ্ছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার দুপাশ ততই দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হচ্ছে। অথচ গত ৬ দশক উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তে স্থিতাবস্থা রক্ষা করা ভারতের চিন নীতির অবিচ্ছেদ্য শর্ত ছিল। কেন্দ্রে যে দলের সরকারই ক্ষমতাসীন হোক না কেন, এক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছে সবসময়। ফলে চিন সীমান্তে ভারতের অবস্থান এতকাল ছিল রক্ষণাত্মক। তবে ১৯৬২-র পর ভারত ও চিনের মধ্যে যতবার সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, তার প্রতিটি ক্ষেত্রে প্ররোচনা এসেছে সীমান্তের ওপার থেকে। যার সর্বশেষ সংয়োজন, ১৫ জুনের নৈশ রক্তপাত। সমস্যা হচ্ছে, চিনের ভারত সম্পর্কিত সীমান্ত নীতি। কমিউনিস্ট রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেও চিনের ভৌগোলিক অবস্থান খুব স্পষ্ট ছিল না। তখন চিনে ছিল সামন্ততান্ত্রিক শিথিল রাষ্ট্র কাঠামো। প্রদেশগুলি থাকত সামরিক শাসকদের অধীনে। মাও জে দং চিনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেই কাঠামো ভেঙে কেন্দ্রীভূত একদলীয় শাসন চালু হয়। সেই শাসন ছিল চিনের মূল ভখণ্ডে সীমাবদ্ধ। তিব্বত, শিনজিয়াং, হংকং ও দক্ষিণ চিন সাগরের দ্বীপগুলি তারপরও বহুদিন পর্যন্ত কমিউনিস্ট শাসকদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। তাইওয়ান তো আজও স্বতন্ত্র অস্তিত্ব রক্ষা করে চলেছে।

- Advertisement -

এসব অঞ্চলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতির ধারা কমিউনিস্ট শাসিত চিনের মূল ভূখণ্ডের চেয়ে শুধু আলাদা নয়, অনেক ক্ষেত্রে আমূল বিরোধীও। গত শতকের পাঁচের দশক থেকে এক এক করে এই অঞ্চলগুলির সিংহভাগের দখলে নিয়েছে চিন। সব ক্ষেত্রেই অবশ্য দখলদারির সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে চিন। তিব্বত ও হালে হংকং যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। সমস্যা আছে অন্দরেও। চিনের পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্ব সীমান্তে বেশ কিছু অঞ্চলের আদি বাসিন্দারা ঐতিহ্যগতভাবে চিনের সঙ্গে থাকতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন না। সামরিক শাসনে কয়েক প্রজন্মের মগজধোলাই ওইসব জায়গায় চিনের প্রভুত্বকে সর্বজনীন করেছে। তবে বলপূর্বক দখল করা এলাকা নিয়ে বেজিংয়ের ভীতি এখনও কাটেনি। চিনের সরকারি তথ্যে দেশে হান সম্প্রদায়ে জনসংখ্যা ৫৫ শতাংশ। এই সম্প্রদায় কমিউনিস্ট পার্টির জনভিত্তির প্রধান স্তম্ভ। শীর্ষস্থানীয় কমিউনিস্ট নেতাদের প্রায় সকলে জাতিগতভাবে হান। এছাড়া চিনে আরও অন্তত ৫৫টি উপজাতি-গোষ্ঠী-সম্প্রদায়ে অস্তিত্ব রয়েছে। এর অনেকগুলি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে হান আধিপত্যের বিরোধী। তিব্বতি, উইঘুর, মঙ্গল, কাজাখ, সুই, উজবেক, তাতারদের প্রতি চিনা হান শাসকদের চিরাচরিত অবিশ্বাস প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে চিনের সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে বহু জাতি-গোষ্ঠী-ভাষাভাষীর দেশ চিনে এক দেশ (পিআরসি), এক দল (সিসিপি), এক ভাষা (মান্দারিন) নীতি অনুসরণ করছে কমিউনিস্ট পার্টির সরকার।

পরিণামে কোটি কোটি মানুষকে সরকারি ছাঁচে ফেলে মানসিকভাবে অভিন্ন অবয়ব দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কৃত্রিমভাবে মানুষকে, বিভিন্ন গোষ্ঠীকে তাদের অতীত সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার এই চেষ্টা চিনের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনকে জটিল করেছে। নাগরিক ও শাসকের এই পারস্পরিক অবিশ্বাস প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে চিনের সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। চিনা একদলীয় শাসনের আরেক নীতি হল- সীমান্তকে নিশ্ছিদ্র করা। ভারত-চিন সীমান্ত সংঘাতেও সেই প্রেক্ষাপটে বিচার্য। সাম্প্রতিক চিন নিয়ে সমস্ত আলোচনা শুনলে বা পড়লে মনে হবে, চিনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ যেন শুধু ভারতেরই আছে। বাস্তবে এই তালিকায় নেপাল, ভুটান, মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া, জাপান, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, ব্রুনেই ও কাজাকিস্তানেরও নাম রয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে চিনের সীমান্ত নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিগত ফারাক অত্যন্ত গভীর। আমেরিকার সঙ্গে চিনের বিরোধ বরং নিতান্তই সামরিক ও আর্থিক। ৩৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত দক্ষিণ চিন সাগরে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতির একমাত্র কারণ, প্রশান্ত মহাসাগরের এই অংশে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথটিকে সুরক্ষিত রাখা। বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ ধরে যাতায়াত করে। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি আমেরিকা দক্ষিণ চিন সাগর মুক্ত রাখাকে নিজেদের দায় ও দাযিত্ব, দুই-ই মনে করে। তবে চিন-মার্কিন এই বিরোধ কখনোই ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধের মতো স্পর্শকাতর নয়।

প্রশ্ন উঠবে, প্রায় একডজন দেশের সঙ্গে চিনের সীমান্ত বিরোধ থাকলেও শুধু ভারতের সঙ্গে কেন বারবার সংঘর্ষের রূপ নেয়? উত্তরটা সোজা। প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে একমাত্র ভারত সামরিক ও আর্থিক দিক থেকে চিনের প্রতিপক্ষ। ভারত বাদে সামরিকভাবে শক্তিশালী যে দেশের সঙ্গে চিনের সীমান্ত রয়েছে, সেটি হল রাশিয়া। রাশিয়া ও চিনের মধ্যে ৪,২০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। কয়েকটি জায়গা বাদে এই সীমান্ত নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত। এছাড়া কৌশলগত কারণে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষ এড়িয়ে চলে চিন। এক্ষেত্রে উত্তর-পূর্বের দুই প্রতিবেশী রাশিয়া ও মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে চিনের আচরণের তফাত স্পষ্ট। মঙ্গোলিয়া সীমান্তে চিন অনেক বেশি আগ্রাসী। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট দেশগুলির প্রতি চিনের ভীতি প্রদর্শনের ইতিহাস খুব প্রাচীন। দক্ষিণ সীমান্তের অন্য দেশগুলির প্রতি বেজিংয়ে আচরণ অনেক বেশি নমনীয়। কারণটা অবশ্যই ভারতের উপস্থিতি। ভারতের সীমান্তবর্তী বাফার স্টেট নেপাল, ভুটানকে পক্ষে টানতে চিনের সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। নেপালে ঘর গোছাতে চিন ইতিমধ্যে অনেকটা সফল। নেপালে গোর্খা জেলার রুই গ্রাম চিন দখল করে নিলেও ওলি সরকার নীরব। তবে তিব্বতের পরিণতি দেখে চিন সম্পর্কে ভুটান অনেক বেশি সতর্ক। অন্যদিকে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে প্রভাব বাড়াতে টাকার ঝুলি উপুড় করে রেখেছে চিন। ওইসব দেশে যাবতীয় বিনিয়োগ হচ্ছে ভারতকে পাখির চোখ করে।

সীমান্ত নিয়ে চিন এত বেশি স্পর্শকাতর কেন? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে চিনে কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্যে। ১৯৪৮-৪৯ সময়ে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট চিয়াং কাইশেকের কুয়োমিনটাং দলকে হটিয়ে বেজিংয়ে মসনদে এসেছিল কমিউনিস্টরা। সেই ক্ষমতা দখলকে সে সময় চিনের বহু মানুষ সমর্থন করলেও তা সর্বজনীন ছিল না। গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চিনে কমিউনিস্ট বিরোধী ক্ষোভ-বিক্ষোভের খবর সময়ে সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে। তিব্বত ও হংকংয়ে চিনবিরোধী আন্দোলন নিয়ে ধোঁয়াশার আর কোনও জায়গা নেই। গত ৭০ বছরে চিনের রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি ফুলেফেঁপে উঠলেও তার সুফল থেকে সে দেশেরই প্রান্তীয় শ্রেণির বড় অংশ বঞ্চিত হয়েছে। বেজিং থেকে দূরের প্রদেশগুলিতে সাধারণ মানুষের দুর্দশা ও আর্থিক অনটন ভীষণরকম প্রকট। গত কয়েক বছরে চিনে কয়েকশো শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলনের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। পুঁজিবাদের এই চৈনিক সংস্করণ নিয়ে পশ্চিমি অর্থনীতিবিদদের ধারণাও এখনও খুব স্পষ্ট নয়। ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে শি জিনপিং এমন একাধিক প্রকল্প শুরু করেন, যার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। জল ও স্থলপথে সিল্ক রুটের পুনরুজ্জীবন, সিপিইসির মতো প্রকল্পগুলির পাশাপাশি পাকিস্তানের আর্থিক বিপর্যয় ঠেকিয়ে রাখার দায়িত্ব নিয়েছে চিন। নেপাল, মায়ানমার, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ইরানের পাশাপাশি আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বহু দেশে চিন বিপুল অর্থ বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে। এসব বিনিয়োগের অনেকগুলি ভারত, আমেরিকার মতো দেশগুলির পক্ষে অস্বস্তিকর। চিনা অর্থে তৈরি পাকিস্তানের গোয়াদার ও শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর দুটি যার উদাহরণ।

দক্ষিণ আমেরিকায় চিনের বিনিয়োগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রবল অস্বস্তিতে ফেলেছে। দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের কৃত্রিম দ্বীপগুলি আবার জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েনামের মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হংকংয়ের ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলির সঙ্গে বেজিংয়ে সম্পর্কে চিড় ধরেছে। উত্তর কোরিয়া, ইরান, সিরিয়ার প্রতি চিনের পক্ষপাত ইউরোপীয় দেশগুলির পক্ষে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক, বুলগেরিয়া, ইতালির মতো মিত্র দেশগুলি শেষপর্যন্ত জার্মানির কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। চিনের অবস্থাটা আজ অনেকটা সেরকম। পাকিস্তান থেকে উত্তর কোরিয়া- সর্বত্র অনুগত শাসক শ্রেণি ও অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে চিনকে বিনিয়োগ করে যেতে হচ্ছে। কখনও অর্থনৈতিক সংকোচন হলে চিনের এই ঋণ-অনুদানের কূটনীতি রাতারাতি ভেঙে পড়বে। এতে শুধু চিন নয়, ওইসব দেশেরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। একদিকে চিনকে বিশ্বের প্রায় সবকটি প্রথমসারির অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির সঙ্গে স্নাযুযুদ্ধ চালাতে হচ্ছে, অন্যদিকে, নাগরিকদের বড় অংশের ক্ষোভ-বিক্ষোভের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। দ্বিমুখী সংকট মোকাবিলায় সীমান্তে সংঘাতের পরিস্থিতি বজায় রাখা যে কোনও শাসকদের পক্ষে জরুরি। প্রতিবেশী দেশের আগ্রাসনের কাল্পনিক কাহিনী জিইয়ে রাখতে পারলে স্বদেশে জাতীয়তাবাদী ভাবাবেগ উসকে দেওয়া যায়। বিরুদ্ধ মতের জনগণকে যুদ্ধের জুজু দেখিয়ে শান্ত রাখা যায়।

অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে সংঘাতকে ব্যবহার করে আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলির ওপর পরোক্ষে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে বেজিং। আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের অগুনতি সংস্থা চিন ও ভারতে বিনিয়োগ করে। নিজেদের স্বার্থেই ওই দেশগুলি ভারত-চিন সংঘাতের পক্ষে নয়। এই সুযোগে দক্ষিণ চিন সাগর, আরব সাগর ও হংকংয়ে কিছু বাড়তি সুবিধা আদায় করে নিতে পারে চিন। আপাতত এক ঢিলে অনেক পাখি মারার পরিকল্পনা নিয়ে চলছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাঁর যাবতীয় পদক্ষেপ একটি অভিন্ন লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। সেটি হল, স্বদেশের বিরুদ্ধবাদী জনগোষ্ঠীগুলিকে বাগে আনা। দীর্ঘদিন তিব্বতিদের প্রতি বেজিংয়ে কমিউনিস্ট শাসকদের অবিশ্বাস চিনের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত নীতিকে প্রভাবিত করছে। চিনের সবচেয়ে বড় অস্বস্তির কারণ হল, ভারতের অন্যতম রাজ্য হিমাচলপ্রদেশের ধর্মশালায় দলাই লামার উপস্থিতি। চিনের দৃষ্টিতে দলাই লামা শুধু তিব্বতি বৌদ্ধদের ধর্মগুরু নন, তিনি তিব্বতের স্বতন্ত্র সত্তার প্রতীকও বটে। তাঁর প্রতি ভারতের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন চিনের অস্বস্তি ও ক্ষোভের প্রধান কারণ। ভারতে আশ্রয় নেওয়া দলাই লামার কারণে তিব্বতে চিনা শাসন নিরঙ্কুশ হতে পারেনি বলে বেজিংয়ে শাসকদের বিশ্বাস। লাসা ও তার সংলগ্ন এলাকাগুলিতে বিভিন্ন সময় তিব্বতিদের বিক্ষোভ, আন্দোলনের যেটুকু খবর বাইরে এসেছে, তা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট। অতীতে চিন একাধিকবার তিব্বতে অশান্তির জন্য দলাই লামা ও এদেশে আশ্রিত তিব্বতি শরণার্থীদের দায়ী করেছে। সেই কারণে লাদাখ ও অরুণাচলপ্রদেশ সীমান্তে ধারাবাহিকভাবে সক্রিয়তা বাড়িয়েছে গণমুক্তি ফৌজ। ভারতীয় সংস্কৃতিতে তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের প্রভাব ওই দুই অঞ্চলে চোখে পড়ার মতো। এর মধ্যে লাদাখে ঐতিহ্যগতভাবে তিব্বতি সংস্কৃতির প্রভাব গভীর। অঞ্চলটিকে ভারতে তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের শেষ দুর্গ বলা হয়। ভারত-তিব্বতের এই প্রাচীন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধন মুছে ফেলার মরিয়া চেষ্টায় এবার নিজের সুবিধামতো প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা টানতে মরিয়া চিন।