লাদাখের আকাশে চিনা বোমারু বিমান, ভারতের ভরসা সুখোই-৩০ এমকেআই  

586
ফাইল ছবি।

নয়াদিল্লি: লাদাখে ভারত চিন সীমান্তে কোনওভাবেই উত্তেজনা কমছে না। অন্যদিকে, স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চিনের অনাগ্রহ দেখে ভারতও আর চুপ করে বসে থাকতে পারছে না।

পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর চিনা বোমারু বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোনের আনাগোনা বাড়ায় ভারত ওই এলাকায় শক্তি বাড়াতে শুরু করেছে। পূর্ব লাদাখে প্রয়োজনে কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ছোড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করা হয়েছে।

- Advertisement -

তবে আগ বাড়িয়ে ভারত সংঘাতে জড়াতে চায় না বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে চিনকে। পূর্ব লাদাখে লাল ফৌজের কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ করতে শুক্রবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, গায়ের জোরে স্থিতাবস্থার বদল ঘটাতে চাইলে শান্তি তো বিঘ্নিত হবেই, তার অভিঘাতও হবে অভূতপূর্ব। তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে।

ভারত এখন অপেক্ষা করছে, চিন যাতে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা মেনে নিজেদের সেনা সরিয়ে নেয় এবং পরিকাঠামোগত নির্মাণ সহ অন্য প্রস্তুতি বন্ধ রাখে।

সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর, চিন যে ধরনের যুদ্ধবাজ মানসিকতা দেখাছে, তাতে আর কোনও ঝুঁকি নেওয়ার অবস্থায় নেই ভারত। বিশেষ করে লাদাখের পূর্ব সেক্টরে চিনা যুদ্ধবিমান ও কপ্টারের গতিবিধি বাড়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনীকে যেকোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হচ্ছে। লাদাখের পূর্বদিকে সামগ্রিকভাবে সেনা মোতায়েন ও সাজসরঞ্জাম বাড়াতে শুরু করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বায়ুসেনা। তৈরি রাখা হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র। সেখানে পালা করে উড়ছে ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই ৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান।

গত কয়েক সপ্তাহে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে চিনা বায়ুসেনার সক্রিয়তা অনেকটা বেড়েছে। সীমান্তের কাছে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে জে-১১ এবং জে-১৬ এর মতো বোমারু বিমানগুলিকে উড়তে দেখা গিয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চিনের হেলিকপ্টার অনেক দিন ধরেই ঘোরাঘুরি করছে বলে খবর। পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪, ১৫, ১৭ এবং ১৭ (এ)-র কাছে, দৌলত বেগ ওল্ডি সেক্টর ও গালওয়ান উপত্যকায় চিনা হেলিকপ্টারের আনাগোনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এমনকি প্যাংগং হ্রদের কাছে ফিঙ্গার ৩ এলাকা পর্যন্ত চিনা কপ্টার চলে আসছে। চিনাবাহিনীর যেকোনও আক্রমণ রুখতে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি রাখা হয়েছে বলে খবর। প্রয়োজনে কয়েক সেকেন্ডে দ্রুতগতির যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে ড্রোন নামিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে আকাশের।