করোনা আবহেই ৫১টি ইঞ্জিন তৈরির নজির গড়ল চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা

390

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: করোনা সংক্রমণের জেরে মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে লকডাউন। দেশের অন্যতম চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানাও ছিল বন্ধ। জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে নির্দিষ্ট কর্মী নিয়ে কাজ শুরু হয়। আর তারপরে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে ৫১টি বিদ্যুতচালিত ইঞ্জিন তৈরি করে ফেলল চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা। লকডাউনে বেশকিছু দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় চলতি অর্থবর্ষের লক্ষ্যমাত্রা ৩৯০টি ইঞ্জিন উৎপাদন নিয়ে চিন্তায় ছিলেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। কারখানার জনসংযোগ আধিকারিক মন্তার সিং বলেন, ‘মাত্র দেড় মাসে যে পরিমাণে ইঞ্জিন উৎপাদন হয়েছে কারখানায় তাতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

গত জুন মাস থেকে কারখানায় উৎপাদনের কাজ শুরু হলেও সেই কাজের জন্য জরুরি কাঁচামাল জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কারখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ইঞ্জিনগুলিতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ইন্ট্রিগ্রেটেড গেট বাইপোলার টেকনোলজি’ ও ‘থ্রি ফেজ টেকনোলজি’। গড়ে প্রতিমাসে ২৫ হাজার ভোল্টের এমন ৪০টি ইঞ্জিন তৈরি হয় এই কারখানায়। কারখানায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পুরণে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে উঠেছিল করোনা। কারখানার জনসংযোগ আধিকারিক জানান, তিনটি শিফটের বদলে দুটো শিফটে কর্মীরা কাজ করছেন। সামাজিক দূরত্ব বা সোশাল ডিস্টেন্স বজায় রেখে চলছে সব কাজ।

- Advertisement -

অন্যদিকে, দেশের প্রথম বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত হাইস্পিড ট্রেন তেজসের ইঞ্জিন তৈরির কাজও শুরু হয়েছে এই চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানায়। জোড়া ইঞ্জিনের মিলিত ক্ষমতা হলো১১ হাজার হর্সপাওয়ার। স্বাভাবিকের তুলনায় তা প্রায় দ্বিগুণ। প্রতি ঘণ্টায় ২২০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার গতিতে ছোটার ক্ষমতা রাখে এই ইঞ্জিন। ইতিমধ্যে কারখানায় তার ট্রায়াল রানও হয়েছে। যদিও এই ‘সিক্রেট’ প্রজেক্টটিকে এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না রেল কর্তৃপক্ষ। এমনকি এই ইঞ্জিন তৈরির ছবি তুলে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে দুই কর্মীকে। শুধু ওই ছবির সত্যতা স্বীকার করে মুখে কুলুপ এঁটেছেন কারখানার আধিকারিকরা। কারখানার জনসংযোগ আধিকারিক মন্তার সিংও তেজসের ইঞ্জিন নিয়ে কোনও মন্তব্য‌ করতে চাননি।