দ্রুতই দেশের অর্ধেক ইঞ্জিনের চাহিদা মেটাবে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা

335

আসানসোল: চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা শীঘ্রই দেশের অর্ধেক ইঞ্জিনের চাহিদা মেটাবে। এমনটাই দাবি কারখানা কর্তৃপক্ষের। সারা দেশের জন্য ২০২১-২২ আর্থিক বর্ষে প্রায় ১,১০০ বৈদ্যুতিক রেল ইঞ্জিনের চাহিদা হবে, যার মধ্যে চিত্তরঞ্জন রেল কারখানা ৫০০ রেল ইঞ্জিন তৈরি করবে। চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা আয়োজিত ভেন্ডার ডেভলপমেন্ট সাক্ষাতের পর এমনটাই জানান কারখানার জেনারেল ম্যানেজার সতীশ কুমার কাশ্যপ।

তিনি জানান, এর আগের বছরে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা ৪৩১টি রেল ইঞ্জিন নির্মাণ করে সর্বকালের রেকর্ড গড়েছে। বর্তমানে করোনার কারণে উৎপাদন কিছুটা কমে চলতি অর্থবর্ষে তা ৩৯০টি হবে। চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা ৯,০০০ অশ্বশক্তির ইঞ্জিন তৈরি করতে পারলেও কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, বেসরকারি জায়গায় না নিয়ে গিয়ে এখানে ১২,০০০ অশ্বশক্তির ইঞ্জিন তৈরি করা হোক। চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানায় এই ক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিন তৈরি করতে সক্ষম? এই প্রসঙ্গে জেনারেল ম্যানেজার বলেন, ‘এই কারখানার সেই ক্ষমতা আছে। এই মুহূর্তে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ যন্ত্রাংশ বাইরে থেকে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানায় আমদানি করা হয়। অর্থাৎ একটি ইঞ্জিন উৎপাদনের জন্য যেসব যন্ত্রাংশ প্রয়োজন তার মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ যন্ত্রাংশ এই কারখানায় উৎপাদন করা হয়। বাকিটা কেনা হয় বাইরের কোম্পানি থেকে।’ তিনি আরও বলেন, চলতি আর্থিক বছরে চিত্তরঞ্জনে ৩৯০টি রেল ইঞ্জিন উৎপাদন হবে। তারজন্য বাইরে থেকে প্রায় ৩,৬০০ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ কেনা হচ্ছে। আগামী আর্থিক বছর এখানে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী মিলিয়ে ইঞ্জিন উৎপাদন হবে প্রায় ৫০০টি। তারজন্য বাইরের কোম্পানি থেকে প্রায় ৪,৫০০ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার যন্ত্রাংশ কেনা হবে।

- Advertisement -

চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার বড় বড় বিভাগে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ ইঞ্জিনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার জন্য সেগুলিকে উপযুক্ত করে না তুলে বাইরে থেকে যন্ত্রাংশ কিনে এই কারখানাকে শুধুমাত্র একটি অ্যাসেম্বল ইউনিটে পরিণত করা হচ্ছে কেন? এর উত্তরে সতীশ কুমার কাশ্যপ বলেন, ‘দেশের সবার কাছ থেকেই গুণমানে ভালো যন্ত্রাংশ কিনলে সমগ্র দেশেরই উন্নতি হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আত্মনির্ভর ভারতের কথা মাথায় রেখেই এই কারখানার উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি না এনে দেশীয় যন্ত্রপাতি তৈরির উপর জোর দিতেই এদিন ভেন্ডার সভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় এক হাজার সংস্থা চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য নথিভুক্ত রয়েছে।’ এদিন চিত্তরঞ্জন ক্লাবে আয়োজিত এই ভেন্ডার মিটে সারা দেশের প্রায় ২০০ জন উদ্যোগপতি অংশ নেন। চিত্তরঞ্জন সংরক্ষিত রেল শহর হওয়া সত্বেও, গত কয়েক মাসে পরপর ৫ জন খুন ও রেল আবাসনের একাধিক জায়গায় অপরাধের ঘটনায় আইন শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে বলে বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাইরের লোকেরা এসে এইসব করছে।