দামোদরের চর এখন চোলাই কারবারিদের স্বর্গ রাজ্য

63

বর্ধমান: বিধানসভা ভোটের মুখে জামালপুরে চোলাই মদের কারবার বন্ধে লাগাতার অভিযানে পুলিশ। যদিও চোলাই কারবারিরা নয়া কৌশল রপ্ত করে নিয়েছে। দিন নয় পুলিশের নজর এড়াতে এখন দামোদরের চরে চলছে চোলাই তৈরির কাজ। রাতের অন্ধকারেই তা পাচার হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। ঘটনায় এবার ফের কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের কথা স্পষ্ট করলেন প্রশাসনিক কর্তারা।

চোলাই মদ খেয়ে মৃত্যু এই রাজ্যে নতুন কোনও ঘটনা নয়। ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে বিষাক্ত চোলাই মদ খেয়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল দক্ষিন ২৪ পরগনার সংগ্রামপুরে। এরপরে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে বিষাক্ত চোলাই মদ খেয়ে ১২ জনের মৃত্যু হয় নদীয়ার শান্তিপুরের চৌধুরীপাড়া গ্রামে। ঘটনায় রাজ্য জুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এতকিছুর পরেও প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রি পুরোপুরিভাবে বন্ধ করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠছে। অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারির শিথীলতাকে হাতিয়ার করেই জামালপুর থানার জামুদহ, চক্ষনজাদি এবং হৈবতপুর এলাকায় চোলাই কারবারিরা নতুন করে ব্যবসা জাঁকিয়ে বসেছে। ঘটনায় প্রশাসনের তরফে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

- Advertisement -

বিরোধীরা এই চোলাই কারবারের বিষয়টিকে ‘ইস্যু’ করায় শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক তর্জা তুঙ্গে জামালপুরে। জামালপুরের বিজেপি যুব মোর্চার নেতা অজয় ডকাল বলেন, ’আবগারী দপ্তর এসবের খবরই রাখে না। শাসকদলের মদতেই চোলাই কারবারীরা রাতের অন্ধকারে এইভাবে দামোদরের চরে অবাধে চোলাই মদ তৈরির প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।’ যদিও জামালপুর ব্লক তৃণমূলের যুব সভাপতি ভূতনাথ মালিক বলেন, ‘বিজেপি নেতারা সব ব্যাপারেই তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেরা সাধু সাজতে চায়। ভোট পাওয়ার জন্য চোলাই কারবারীদের করা মদত জোগাচ্ছে সেটা সবাই জানে। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। প্রশাসন এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।’

জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, ‘ঘটনা সত্যি হলে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপও নেওয়া হবে।’