করোনা সতর্কতা মেনে বাড়ির ছাদে ছট পুজো

481

মালবাজার, ২০ নভেম্বরঃ বাড়ির ছাদে প্লাস্টিক পেতে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা জলাধারে শুক্রবার বিকেলে ছট পুজোর অঙ্গ হিসেবে অস্তগামী সূর্যকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করল উপাধ্যায় পরিবার। মাল শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে এমনই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। আবার শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে রায় পরিবার বাড়ির সামনে মাটি কেটে অস্থায়ী জলাশয় তৈরি করে ছট পুজোর কাজ করা হয়েছে। করোনা আবহে এরকমই টুকরো টুকরো বাড়তি সতর্কতার কোলাজ এবার মাল শহরে দেখা গিয়েছে। রবিবার মাল শহরের মাল নদী এবং শঙ্খিনী ঝোড়ারঘাট গুলিতে শ্রদ্ধা সহকারে ছট পুজো অনুষ্ঠিত হয়। জলপাইগুড়ি জেলার পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব সহ পুলিশ আধিকারিক এবং অন্যান্যরা ছট ঘাট পরিদর্শন করেছেন।

মাল শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ন উপাধ্যায় অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী। এবার উপাধ্যায় পরিবার বাড়ির ছাদে ছট পুজো করেছে। পেশায় শিক্ষক পরিরবারের সদস্য নীতেশ উপাধ্যায় শিক্ষক বলেন, আমরা প্রতি বছর পানোয়ার বস্তি ছট পুজো কমিটির তত্ত্বাবধানেই শঙ্খিনী ঝোড়ার ধারেই ছট পুজো করি। এবার করোনা আবহ। তাই বাড়ির বয়স্ক এবং শিশুদের কথা মাথায় রেখে বাড়িতেই পুজো করেছি। বাড়ির ছাদে প্লাস্টিক দিয়ে অস্থায়ী জলাধার তৈরি করে সেখানে পুজো করেছি।

- Advertisement -

১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রায় পরিবার বাড়ির সামনে জলাধার তৈরি করেই পুজো করেছে। প্রতিবছর তাঁরা মহাকাল পাড়ার মাল নদীর ঘাটে ছট পুজো করতেন। এবার বাড়ির সামনে অল্প মাটি খুঁড়ে কৃত্রিমভাবে অস্থায়ী জলাধার তৈরি করা হয়েছে। সেখানেই পুজো অর্চনার কাজ হয়েছে। পরিবারের পক্ষে পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার বিমলা রায় বলেন, আমরা করোনাভাইরাস রুখতে প্রশাসনিক নিয়ম অনুসরণ করেছি। এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই বাড়িতেই পূজোর কাজ সেরেছি।

এধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। মাল শহরের নেতাজি কলোনির বাসিন্দা তথা তেজীমলা বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জনি সরকার বলেন আমি ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের উপাধ্যায় পরিবারের বাড়ির ছাদের পুজো দেখে এসেছি। উনাদের উদ্যোগকে কুর্নিশ জানাই। মালবাজারের বিহারী বিকাশ সমিতির সভাপতি ধর্মেন্দ্র মিশ্রা বলেন, এবার বাড়িতে ছট পুজো করতে চাইলে আমরা নিষেধ করিনি। আমরাও চাইছিলাম ছট ঘাটে যতটা সম্ভব ভিড় কম থাকে। আমরা ছট ঘাটে স্যানিটাইজার, মাস্ক ইত্যাদির ব্যবস্থা রেখেছিছিলাম। বাড়িতে ছট পুজোর উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি।

মাল থানার ওসি শুভাশিস চক্রবর্তী বলেন, আমরাও খবর পেয়েছি, এবার অনেকেই বাড়িতে ছট পূজোর কাজ সেরেছেন। এই উদ্যোগ ভালো। তাছাড়া ছট ঘাট গুলোতেও প্রশাসনিক এবং হাইকোর্টের নির্দেশাবলী মেনেই পুজো হয়েছে। বাজি, পটকা পোড়ানো হয়নি। আমাদেরও নজরদারি ছিল।

মাল শহরের মাল নদীর ধারে তিনটি ছট পুজো হয়। মহাকাল পাড়ার পাশে মাল নদীতে সুলভ চেতন পঞ্চ রতন কমিটির উদ্যোগে ছট পুজো হয়েছে। এছাড়া মশলাপট্টি এবং শিববাড়ি মহাস্থান যুব সংস্থার উদ্যোগে যথাক্রমে মাল নদীর ধারে মসলা পট্টি ক্ষুদিরামপল্লী ঘাটে পুজো হয়। শহরের অন্যধারে পুজো কমিটির উদ্যোগে নিউ গ্লেনকো চা বাগান এবং সূর্যসেন কলোনি ছট পুজো কমিটির উদ্যোগে শঙ্খিনী ঝোড়ার ধারে ছট পুজো হয়।। শনিবার ভোরেও উদীয়মান সূর্যকে পুজো করা হবে।