বড়দিন উপলক্ষ্যে সেজেছে মাদারিহাটের বনবস্তিগুলি

211

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: সবুজের সমারোহে বনের মাঝে বাস করেন তাঁরা। তাঁরা সবাই বনবস্তির বাসিন্দা। তাঁদের ঘরে অর্থাভাব, এলাকায় যোগাযোগের সমস্যা রয়েছে। এলাকায় সারাবছর হাতির হানা লেগেই থাকে। তবে সব ভুলে প্রতিবছর বড়দিনের আনন্দে মেতে ওঠেন তাঁরা। এবছরও বড়দিন উপলক্ষ্যে সেজে উঠেছে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাটের দুটি বনবস্তি। মাদারিহাটের উত্তর খয়েরবাড়ির জঙ্গলে অবস্থিত বনবস্তি ও ধূমচী বনাঞ্চলে অবস্থিত বনবস্তি দু’টিতে বড়দিন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার উৎসবের মেজাজ লক্ষ্য করা গিয়েছে। রঙিন আলোয় সাজানো হয়েছে চার্চগুলি।

প্রসঙ্গত, দুটি বনবস্তির বাসিন্দারাই রাভা জনজাতির। তাঁদের মধ্যে প্রায় সকলেই খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী। তাই, প্রতি বছরই বড়দিন উপলক্ষ্যে ওই দুটি বনবস্তিতে আনন্দের হাট বসে। ধূমচী রাভাবস্তিতে ৭৫টি পরিবার বসবাস করে। স্থানীয়রা জানান, ১৯৮২ সালে সেখানে ব্যাপ্টিস্ট চার্চ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ধূমচী রাভাবস্তির বাসিন্দারা জানান, সামর্থ্যের মধ্যেই তাঁরা প্রতিবছর বড়দিনের আনন্দে মেতে ওঠেন। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এলাকার বাসিন্দা তপনকুমার রাভা বলেন, ‘প্রতি বছর বড়দিন উপলক্ষ্যে আমরা দু’দিন ভীষণ আনন্দ করি। ২৫ ডিসেম্বর প্রার্থনা ও ২৬ ডিসেম্বর গণভোজ অনুষ্ঠিত হয়। এবছরও তার ব্যতিক্রম হবে না।’ খয়েরবাড়ি বনাঞ্চলের উত্তর খয়েরবাড়ি বনাঞ্চলেও ৭০-৭৫টি রাভা জনজাতির পরিবার বসবাস করে। ১৯৭৯ সালে সেখানে ব্যাপ্টিস্ট চার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই রাভাবস্তির বাসিন্দারা তথা কলেজ শিক্ষক অনন্ত রাভা বলেন, ‘বড়দিন উপলক্ষ্যে এদিন চার্চকে সাজানো হয়েছে।’

- Advertisement -